শেখ মুজিবকে আমি একটু আলাদা দৃষ্টিতে দেখি। তার জীবনটি সত্যিই অনন্য। তার
সাফল্য এবং ভুল-ভ্রান্তি তথা ব্যর্থতা দুটি থেকেই আমরা শিক্ষা নিতে পারি।
তার ভালো গুণগুলো অনুসরণ করতে পারি। আর যে যে কারণে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন
সেগুলো বর্জন করতে পারি। সুতরাং শেখ মুজিব আমাদের জন্য সত্যিই দুটি পথই
রেখে গেছেন। একটি জাতির জন্য তার জীবন তো দিশারীর ভূমিকা পালন করতে পারত।
কিন্তু শেখ মুজিবের একান্ত অনুসারীরা তো দূরের কথা, এমনকি তার সন্তানরাই
তার জীবন থেকে কোনো শিক্ষা নিয়েছেন বলে মনে হয় না। নিন্দুকরা বলে তারা শেখ
মুবিবের ভুল নীতিগুলোকেই শক্তভাবে আঁকড়ে রেখেছেন এবং সদ্গুণাবলী, বিশেষত
তার স্বদেশপ্রেম, বিশেষত পররাষ্ট্রনীতি, সরাসরি বর্জন করছেন। তার অনুসারীরা
তাদের ব্যক্তিগত ও বংশগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য শেখ মুজিবকে ব্যবহার করছেন,
বাস্তবে শেখ মুজিবের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ তাদের মধ্যে আছে বলে মনে হয়
না।
শেখ মুজিবের এমন করুণ পরিণতির কারণগুলো শেখ হাসিনার অবশ্যই জানা আছে। ওই
সময়ে শেখ হাসিনার মতো বয়সী লাখ লাখ মানুষ এখনও বেঁচে আছেন। তারা শেখ
মুজিবের সাড়ে তিন বছরের শাসনের প্রত্যক্ষদর্শী। শেখ মুজিব কেন কাদের কারণে
এভাবে নিহত হলেন, সেটা জানার জন্য আমাদেরকে শেখ হাসিনা কিংবা অন্য কারো কাছ
থেকে ছবক নিতে হবে না। আমরা সবাই তা দেখেছি। তাই শেখ হাসিনার এমন
মন্তব্যে কেউ কোনোভাবেই সায় দেয়নি যে শেখ মুজিব দেশের জন্য ‘বুকের রক্ত
দিয়েছেন’।
২৯ মার্চ বিআইডব্লিউটিসি’র নবনির্মিত যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি বাঙালি’র
উদ্বোধন শেষে জাহাজে করে চাঁদপুর জেলার মতলব থানার মোহনপুর ঘাটে তিনি এ
মন্তব্য করেন। এ ধরনের মন্তব্য আবেগতাড়িত কিংবা ইতিহাসকে ঘুরিয়ে দেয়ার অথবা
বিকৃত করার ইচ্ছাপ্রসূত হতে পারে, এমনকি নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা
যেতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। এটাও নিরেট ইতিহাস
বিকৃতির উদ্দেশ্যপ্রসূত হতে পারে।
শেখ মুজিবকে বিতর্কিত, ব্যর্থ তথা অপমানিত করার জন্য তার প্রতিপক্ষের
ভূমিকা একেবারেই নগণ্য। তার আপনজনেরা (তার মৃত্যুর আগে ও পরে) তাকে
বিতর্কিত করার জন্য মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। নিজ নিজ স্বার্থ বাগাতে এবং
নিজেদের চুরি-চামারি থেকে রেহাই পেতে তারা চাটুকারের ভূমিকা পালন করে।
তারা শেখ মুজিবকে অতিমাত্রায় ওপরে তুলতে গিয়ে এমনসব বেফাঁস ও অতিরঞ্জিত
প্রশংসা এবং তাদের প্রতিপক্ষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য এবং তাদের অবদানকে সরাসরি
অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে তাদের মনগড়া তথ্য জাতির কাছে উত্থাপন করার অপকৌশল
অবলম্বন করে। এভাবে তারাই অকারণে শেখ মুজিবের প্রতিপক্ষ সৃষ্টি করেছেন,
তাদেরকে সঠিক তথ্য প্রদানে বাধ্য করছেন। তাদেরকে শেখ মুজিবের
দোষ-ত্রুটি-ছিদ্রান্বেষণ করতে প্ররোচিত করছেন। এমনকি এ নিবন্ধের অবতারণাও
হতো না, যদি শেখ হাসিনা এমন মন্তব্য না করতেন যে, তিনি তার ‘বাবার মতো
প্রয়োজনে বুকের রক্ত দেবেন’।
শেখ মুজিবকে যারা ডুবিয়েছে তাদের সবাই তারই অনুসারী, তার কাছ থেকে
সুবিধাপ্রাপ্ত। আজকে যারা তার জন্য মায়াকান্না করে, তারাও এর বাইরে নয়। এরা
শেখ মুজিবকে তাদের অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতাপ্রাপ্তির সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার
করেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে না গড়ে তারা চুরি-চামারিতে লিপ্ত হয়। জনগণের
জন্য আসা সম্পদ এরা নিজেদের পকেটে ঢোকায়। শেখ মুজিব নিজেই ক্ষোভে-দুঃখে
প্রকাশ্যে বলেছিলেন : ‘আমি যেদিকে তাকাই শুধু চোর দেখি।’ ‘সবাই পায় সোনার
খনি, আর আমি পেয়েছি চোরের খনি।’ দলীয় লোকদের প্রতি তার আচরণ প্রসঙ্গে অকপটে
স্বীকার করেছেন। বলেছেন : খুন করে এসে ‘বঙ্গবন্ধু আমি খুন করেছি বললেও,
আমি এদেরকে মাফ করেছি’।
এসব সার্টিফিকেট ও বক্তব্য শেখ মুজিবের। তাদের চুরি-চামারি, খুন-রাহাজানি,
চোরাচালান এবং প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য চক্রান্তের কারণেই মাত্র সাড়ে তিন বছরের
মাথায় শেখ মুজিবের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ধূলায় মিশে যায় । তাদের কারণেই
তাদের জন্যই শেখ মুজিবের নির্মম মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর তার কাছ থেকে
সার্বিকভাবে প্রাপ্ত সুবিধাভোগী সহযোগীদের মাতম করতে পাওয়া যায়নি। তিনি যদি
দেশের জন্য মানুষের জন্য বুকের রক্ত দিতেন তাহলে তার কাছ থেকে
সুবিধাপ্রাপ্তরাও কেন আত্মগোপনে গেছেন, নীরব ছিলেন। আর শেখ হাসিনা এখন
জনগণের ইচ্ছের বিপরীতে গিয়ে যদি বলেন, তিনিও তার বাবার মতো জীবন দিবেন,
তাহলেও মানুষের মনে কোনো দাগ কাটবে বলে মনে হয় না। তাদের মতে শেখ হাসিনা
তার ছেলে তথা বংশানুক্রমিক স্বার্থে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল নির্মম
শক্তি ব্যবহার করে তার অপশাসনকে ধরে রাখতে চান।
শেখ মুজিবের অবদান বাংলাদেশের জন্য যা-ই হোক তার মৃত্যু কিন্তু বাংলাদেশ
কিংবা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে ছিল না। জনগণের জন্য তিনি মৃত্যুবরণ
করেননি। জনগণও তাকে মারেনি। দেশের মানুষের জন্য জীবন দিলে তার নিহত হওয়ার
খবর প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার রাজপথে মানুষের প্লাবণ বয়ে যেত।
তেমনটি তো দূরের কথা, এক সময়ে তার জন্য পাগলপারা মানুষকে সামান্যতম শোক
করতেও দেখা যায়নি। এমনকি তার দলের সুবিধাভোগীরা রাস্তায় না নেমে অনেকেই
পালিয়ে গিয়েছিলেন। আমি চিনি শেখ মুজিবের এমন অতি নিকটের নেতৃস্থানীয় কেউ
কেউ ১৫ আগস্ট খুব ভোরে প্রাণ বাঁচানোর জন্য গামছা পরে বুড়িগঙ্গা সাঁতরে
কেরানীগঞ্জে আশ্রয় নিয়ে পরে ফরিদপুরের দিকে গিয়েছিলেন। তত্কালীন
সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, রক্ষীবাহিনীর প্রধান (এমনকি প্রধান
উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদ) তথা আজকের সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের হোতারা অথবা
আজকে বঙ্গবন্ধুর জন্য জান-কোরবান আমু, নাসিম, তোফায়েল, টুকু, হানিফ গংদের
১৫ আগস্টের পর থেকে দেখা যায়নি। তারা কেন মুজিব হত্যার প্রতিবাদ করেনি?
তাদের কোনো গর্জন কেন জাতি শুনতে পায়নি? এসব রাঘব-বোয়ালরা ওই সময় কোথায়
ছিলেন? কোথায় ছিলেন ইনু মতিয়া মেননসহ সব সুবিধাভোগী পরজীবী ভণ্ড কমিউনিস্ট
বুর্জোয়া ও ভোগবাদীরা, যারা আজকে শেখ হাসিনাকে মই হিসেবে ব্যবহার করে উপরে
উঠেছেন আর শেখ হাসিনাকেও ডুবাচ্ছেন?
ভারতীয় চর খালেদ মোশাররফের হাতে খন্দকার মোশতাক ও তত্কালীন সেনাবাহিনী
প্রধান জিয়াউর রহমান বন্দি হওয়ার পর ৭ ডিসেম্বর সিপাহী-জনতা রাস্তায় নেমে
পড়ে। খালেদ মোশাররফের পতন ঘটিয়ে তারা জিয়াদের মুক্ত করে আনে। তাহলে শেখ
মুজিবের মৃত্যুর পর এ জনগণ কেন নীরব ছিল? তারা কেন রাস্তায় নেমে পড়েনি?
কারণ একটাই শেখ মুজিব জনগণের জন্য মৃত্যুবরণ করেননি। তিনি জনগণের কারণে
যেমন মরেননি, তেমনি জনগণের জন্যও মরেননি। তিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে
পড়েছিলেন।
এখন শেখ হাসিনা বলছেন, ‘বাংলার মানুষকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে আসীন করতে
যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে বাবার মতো বুকের রক্ত
দেব। তবুও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।’
একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন ধরনের সস্তা ও অবাস্তব মন্তব্য তথা শপথ
কোনোভাবেই কাম্য নয়। ‘বাংলার মানুষকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে আসীন করতে যে
কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত’— এ কথার মানে কি? বিশ্বের বা অন্য
দেশের কেউ কি তাকে তেমন কাজ করতে বাধা সৃষ্টি করছে? তাকে বুকের রক্ত দিতে
হবে কেন? তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে আসীন প্রতিষ্ঠিত করতে কি
করছেন, তাও তো স্পষ্ট নয়। সবচেয়ে বড় পতাকা বানানো কিংবা দরিদ্র দেশের ৯০
কোটি টাকা দিয়ে মানুষ এনে ‘আমার সোনার বাংলা’ গান গাওয়ার কারণে বিশ্বসভায়
বাংলাদেশ কোনোভাবেই মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক
কাজের মাধ্যমে ফালতু সেনেসশন তৈরি করা যায়, কোনোদিন কোনো জাতি মর্যাদার
আসনে প্রতিষ্ঠিত হয় না, বাংলাদেশও হবে না। যে দেশের মানুষ কথা বলতে পারে
না, ভোট দিতে পারে না, প্রতিনিয়ত গুম-অপহরণ-খুন হয়, রাস্তায়-ডোবা-নালায় লাশ
হয়ে পড়ে থাকে, বিচার বিভাগ আইনসভাসহ সবকিছু একব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করে, যে
দেশের সরকার কেবল ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের স্বার্থ অন্য দেশের কাছে তুলে
দিতে পারে, সারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তা কোনোভাবেই ‘বিশ্বসভায়
মর্যাদার আসনে আসীন’ হয় না। দেশের নাজুক পরিস্থিতি থেকে শেখ হাসিনা জনগণের
দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চান। দেশে দুর্যোগময় পরিস্থিতি বিরাজ থাকা
সত্ত্বেও ক্রিকেট খেলার ব্যবস্থা করা, ভারত থেকে নট-নটী এনে নাচ-গান করানো
কিংবা আমার সোনার বাংলা গাওয়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে দেখাতে চান
মৃত্যুর কূপ হিসেবে দুর্নাম অর্জনকারী বাংলাদেশ নামক দুর্ভাগা দেশটির
মানুষ মহাসুখে আছেন।
শেখ হাসিনা কোটি কোটি টাকা খরচ করে তার হাজারো ব্যর্থতা, দুর্নীতি, হত্যা,
দুঃশাসনের অপকীর্তি ঢাকার চেষ্টা করছেন। মানুষ জানে যে কোনো দেশই যে কোনো
সময় ইচ্ছে করলে এ ধরনের রেকর্ড মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে দিতে পারে। সুতরাং
বিশাল পতাকা কিংবা দুই লক্ষাধিক মানুষকে দিয়ে আমার সোনার বাংলা গান গাওয়ানো
কোনোভাবেই স্থায়ী রেকর্ড নয়, বরং একেবারেই ভঙ্গুর। এ কাজ করায় বিশ্বসভায়
বাংলাদেশ কোনোভাবেই মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এটা কেবল তারাই বলে
বেড়ায় যারা তাদের দুর্নীতি, চুরি-চামারি, মামলা-হামলা, গুম, অপহরণ,
খুন-খারাবি আড়াল করতে চায়।
শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, তিনি হয়তো গুলি কিংবা বোমার আঘাতে মারা
যাবেন। তিনি এটা জেনে রাখুন তিনি যদি ভালো কাজই করতেন, তবে জনগণ তাকে মাথায়
তুলে রাখতো, নিন্দুকদের ভাষায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে বন্দি
অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীত্ব করতে হতো না। প্রতিনিয়ত বুলেট কিংবা মৃত্যু তাকে
তাড়িয়ে বেড়াত না। এমনকি মন্দ কাজ করলেও তাকে বুকের রক্ত দিতে হবে না, যদি
তিনি তার মন্দ কাজের পরিণতি অনুভব করে সেগুলো পরিহার করেন কিংবা জনগণ কী
চায় সে অনুসারে কাজ করেন, অথবা ক্ষমতা থেকে সরে পড়েন। শক্তি প্রয়োগ করে,
সত্যকে মিথ্যা কিংবা মিথ্যাকে সত্যি হিসেবে প্রচার করে, অন্যায়ভাবে মানুষ
মেরে তিনি জনগণকে সাময়িকভাবে দাবিয়ে রাখতে পারবেন। এতে জনরোষ কমবে না, বরং
বাড়বে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে, রাষ্ট্রীয় শক্তিকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে
সাময়িক পার পাওয়া যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদের জন্য তার প্রতিফল শুভ হয় না।
শেখ মুজিবই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
শেখ হাসিনার কাজকর্ম ও তার বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি দেশের জনগণের পক্ষে নন,
বরং তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এ অবস্থায় তার রক্ত দেয়ার ঘোষণা
নিয়ে মানুষ হাসিঠাট্টা, বিদ্রুপ-মশ্করা করে। তাই শেখ হাসিনার ‘বাবার মতো
বুকের রক্ত দেয়ার ঘোষণা’ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠকদের মধ্যে কেমন
প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে সেদিকে দৃষ্টি দিলেই শেখ হাসিনা আঁচ করতে পারবেন
জনগণের কাছে তার অবস্থান কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। তা অনুধাবন করার জন্য
শেখ হাসিনার বুকের রক্ত দেয়ার বক্তব্য পাঠান্তে ‘দৈনিক আমার দেশ’র কিছু
পাঠকের প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনা ও তার স্যাঙ্গাতদের জ্ঞাতার্থে এখানে তুলে
ধরতে চাই। মন্তব্যে বেরিয়ে এসেছে কী কারণে শেখ মুজিবকে মরতে হয়েছে, জনগণ
শেখ হাসিনাকে কীভাবে বিবেচনা করে এবং জনগণের কাছে শেখ হাসিনার অবস্থান
কোথায়?
· সিলেট থেকে এসবি উদ্দিন বাংলাকে ইংরেজিতে বানান করে লিখেছেন : মানুষের
গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার কারণে বাবা মুজিবের পরাণ গেছে। একনায়কতন্ত্র
প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাই। এজন্য আহ্লাদ করবার কী আছে? আর হাসিনা জীবন দিবে
এই কথা ১০০% মিথ্যা। লোভীরা বেশি দিন বাঁচতে চায়।
· মুরতুজা হক অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড থেকে লিখেছেন : কেউই আপনার রক্ত চায় না, দেশের প্রত্যেকে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান।
· আফজাল খানের মতে : ‘প্রয়োজনে বাবার মতো রক্ত দেব : প্রধানমন্ত্রী একথা
বিরুদ্ধবাদীদের বলা অতি সহজ, কিন্তু রক্ত দেয়া (আত্মত্যাগ করা) বড় কঠিন।
বাকশালের অনুঘটকরা রক্ষীবাহিনীকে ব্যবহার করেছিল এবং ৩০,০০০ মানুষের জীবন
নিয়েছিল এবং রক্ত দিয়ে গোসল করেছিল। (তার) বাবা জাতির জন্য বুকের রক্ত
দেননি, বরং বাকশালের জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন। দয়া করে আত্মত্যাগ করবেন না
এবং বাংলাদেশের মানুষ সেটা চায় না। আপনি যদি ভারতের জন্য কিছু করতে চান তবে
তা করুন।...আপনি বাংলাদেশের জনগণের জন্য অনেক কিছু করেছেন, এখন বিদায়
নেবার সময় এসেছে।
· আসিম মাহমুদ লিখেছেন : দয়া করে...আপনার রক্ত-ফক্ত দেয়ার দরকার নাই। রক্ত
দেয়ার কথা বলে দেশের ১২টা বাজাইয়া দেন। আপনার যদি রক্ত দেয়ার থাকে, তবে
ইন্ডিয়ায় গিয়া তা দেন। বাংলাদেশে আপনার রক্ত দেয়ার দরকার না(ই)।
· চট্টগ্রাম কলেজের কামাল চৌধুরী লিখেছেন : পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রয়োজনটা
কী? কে চায় না যুদ্ধাপরাধের বিচার? বিপক্ষকে ঘায়েল করতে জামায়াত, বিএনপি,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, গণতন্ত্র রক্ষা,
যুদ্ধাপরাধের বিচার সব কিছুকে একসঙ্গে সামনে এনে জনগণকে বিভ্রান্ত করা
হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের সঙ্গে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কী
সম্পর্ক? গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কোথায়? এখানে গণতন্ত্রের চর্চা হয় না।
ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র চর্চা হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং গণতন্ত্রকে
হত্যা করার জন্য যা দরকার তা-ই চলছে। নির্বাচন গণতন্ত্র নয়। এটা একটা চর্চা
যা কাজের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। সবাই আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার কথা বলছে।
অথচ বিএনপি একটু এগোলেই এমনভাবে খোঁচা মারা হয় যাতে সে আর সামনের দিকে না
এগোয়। প্রতিটি বক্তৃতায় জামায়াত-বিএনপি। বিভিন্নজন বলা শুরু করেছেন এ সরকার
পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছে। সারা পৃথিবী চাচ্ছে ভোটারবিহীন এ নির্বাচন
বাদ দিয়ে নতুন একটা নির্বাচন হোক। জামায়াতকে নিয়ে তো প্রধানমন্ত্রীই
খেলছেন। প্রথম পাঁচ বছর কান্নাকাটি করে ক্ষমতায় থাকলেন যে আপনার বাবাকে
মেরে ফেলা হয়েছে। এরপর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি বলে আরও পাঁচ বছর নিয়ে
গেলেন। এরপর এলেন যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে, এরপরে কী? জাতীয় নির্বাচনে
১৫৩টি আসনে কোনো প্রার্থী নেই! প্রায় অর্ধশত কেন্দ্রে কেউ ভোট দিতে যায়নি।
সেখানে আওয়ামী লীগের ভোটগুলো গেল কোথায়? ওই কেন্দ্রগুলোয় যাওয়া-আসার পথে
কেউ আহত-নিহত হয়েছেন এমন কোনো সংবাদও তো শুনিনি। তাহলে আওয়ামী লীগের
ভোটাররা গেল না কেন? যারা ক্ষমতায় ছিলেন বা যে কোনোভাবে হোক এখনো ক্ষমতায়
আছেন, তারা কোনো ভুলভ্রান্তি করেছেন তা স্বীকার করতে চাচ্ছেন না। তারা
যেভাবে কৌতুক, হাসাহাসি, মন্তব্য করছেন তাতে মনে হচ্ছে একাই যথেষ্ট। এ দেশে
যে ১৬ কোটি মানুষ আছে, তারা যে দেশের জন্য ভাবে, তাদেরও যে মতামতের
প্রয়োজন আছে এটা মনেই করছেন না। কোনো জাতির জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি খুব
ভয়ঙ্কর।
· ঢাকা কলেজের ‘আমি তৃঞ্চার্ত পথিক’ লিখেছেন : মাননীয় অবৈধ প্রধানমন্ত্রী।
আপনি বাংলাদেশে মানুষের মুখের হাসি সেভাবেই ফোটাতে চান যেভাবে আপনার বাবা
’৭৪ সালে ফুটিয়েছিল। তখন বাংলাদেশের মানুষ হাসতে হাসতে না খেয়ে রাস্তায় লাশ
হয়ে পড়ে ছিল। আপনি সেভাবেই মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চান যেভাবে আপনার
বাবা সিরাজ শিকদারের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন। তিনি হাসতে হাসতে পুলিশের
গুলিতে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে মরে পড়েছিলেন। সেভাবেই হাসি ফোটাতে চান যেভাবে
আপনার বাবার চামচারা কলকাতার বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করে
দিয়ে বাংলাদেশের ৪ লক্ষ হতভাগা জনগণকে হাসতে হাসতে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য
করেছিলেন। আপনিও ঠিক সেভাবেই মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে অবৈধভাবে ক্ষমতায়
এসেছেন।
· ‘আমি তৃঞ্চার্ত পথিক’কে সমর্থন করে পিনু চৌধুরী লিখেছেন : এসব মন্তব্যের
জন্য ধন্যবাদ। হাসিনা দিদি কয় কী? বুকের রক্ত দিবো? দিদির বুকের ভিতর
বাকশাল আছে। তবে কি অভাগা দেশের শেষ রক্ষা নেই? (হায়রে বাঙালি + হায়রে
বাংলাদেশী।)
· এমডি শাহাজাহান খান লিখেছেন : কেউ রক্ত দেয় কারো রক্ত নেয়। দেয়া আর নেয়া
দুটো এক নয়। আপনার বাসনা যত তাড়াতাড়ি পূর্ণ হবে, ততই দেশের মঙ্গল।
· নুর আবসার জনি প্রশ্ন প্রকাশ করেছেন, তার মানে কি আবার বাংলাদেশের জনগণের জন্য ৭২-৭৫ (এর) মতো কালো অধ্যায়ের সূচনা হলো?
· আহমেদ রুমান শামসি লিখেছেন : অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা ও নাটকীয় ইউ-টার্ন
(পল্টি) করার জন্য বাল (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) প্রধানের (অনুরাগীরা ও ভারত
সরকার) আপনাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করবে এবং দেশের জন্য আপনাকে আত্মত্যাগের
(কথা বলিয়ে) আপনাকে সে বার্তাই (হিন্দুত্ববাদের বলি) পৌঁছিয়ে দেয়া হচ্ছে।
আপনি আপনার পাপের জন্য চিন্তিত এবং জাহান্নাম হতে মুক্তি পাবার জন্য আপনি
(এ) ধরনের মৃত্যু কামনা করছেন। কিন্তু আল্লাহ (ছুবহান্নাল্লাহু) সবকিছু
জানেন অথবা আপনার অন্তরে তা সৃজন করেছেন। আরো ক্ষতিসাধন হতে দেশকে রক্ষা
করতে আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন।
· জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হোসাইন লিখেছেন : বাবাতো দেশের মানুষের জন্য
রক্ত দেন নাই, নিজ বংশের আধিপত্য বিস্তারের জন্য রক্ত দিয়েছিলেন। ‘বাকশালের
জন্য বর্তমানে শেখ মুজিব বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি’। আপনিও কি ওই
পথে যেতে চান, তাহলে তো জনগণের আর বুঝতে বাকি রইলো না, ‘বাপকা বেটা,
সিপাইকা ঘোড়া’। তাহলে বাংলার মানুষ আর একটি ঘৃণিত মুখ দেখবে, সেই অপেক্ষায়
রইলাম।
· কাওসার খানের মন্তব্য : ২৫ মার্চ মুজিব...আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে চলে
যান। বাঙালি আর্মডফোর্স প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫ মার্চ রাতে
ওসমানী সাহেবকে হত্যার জন্য এক প্লাটুন পাকিস্তানি সৈন্য উনার বাড়িতে
আক্রমণ করে। আল্লাহর রহমতে ওসমানী সাহেব বেঁচে যান। এদিকে চট্টগ্রামে
প্রতিরোধ যুদ্ধরত কর্নেল এম আর চৌধুরী শহীদ হন। ২৭ মার্চ জিয়া নেতৃত্ব নিয়ে
নিজেকে প্রেসিডেন্ট বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন...।
· কাজী শাহাজাহন বলেন, ৭ মার্চ শেখ মুজিব রেস কোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)
ময়দানে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, তবুও এ দেশের
মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। প্রকৃতপক্ষে শেখের পরিবার থেকে
স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ অবধি দেশের জন্য এক ফুটা (ফোঁটা) রক্ত
কেউ বিসর্জন দিয়েছেন কি? ফাল্তু কথা ছেড়ে দিন। আপনার ভাওতাবাজি জনগণের আর
বুঝার বাকি নাই।
· আবদুল সালামের মন্তব্য এ রকম : তুই নিজের ভোটটা দিতে পারলি না, তুই ভারতের তলের কুটুম।
· কাজী শাহাজাহন আরেকটি মন্তব্যে লিখেছেন : আল্লাহ, তুমি হাসিনার মনোবাসনা পুরা করে দাও। আমিন।
· সোলা খানের পরামর্শ : আপনি দয়া করে বিদায় নিন, আপনার পচা রক্ত বাংলাদেশের প্রয়োজন নাই, ভারতেরই প্রয়োজন।
· শেখ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের সাফ কথা : রক্তটক্ত দিতে হবে না বোন, দয়া
করে বিশ্রামে যান, বাংলার মানুষকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে আসীন করার জন্য
এইটুকু যথেষ্ট আপনার পক্ষ থেকে। আপনার পায়ে পড়ে অঝোর ধারায় কান্না করে
মিনতি করছি আমি সবার পক্ষ থেকে...!
· ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্দিক মিয়া প্রশ্ন রেখেছেন : হাসিনা যদি এতই
সাহসী হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি কেন ছয় স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া
চলাফেরা করেন না।
· জিন্দাল জুবলি হাইস্কুলের মনির হোসেন লিখেছেন : হায়েনা রক্ত ছাড়া কিছু
বোঝে না। আমার ফাঁসি চাই বইটি পড়ে দেখুন। (hayena rokto chara kichui buje
na. amar fasi chai boiti pore dekhun)
· কামাল রহমান ইংরেজিতে লিখেছেন : প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আমি খুশি যে,
আপনার বাবার জন্য আপনার গভীর ভালোবাসা রয়েছে। মহান ব্যক্তিরা উদাহরণ সৃষ্টি
করেই বেঁচে থাকেন (অমর হন), লম্বা লম্বা কথা বলে নয়। আপনার কথার মধ্যে বেশ
স্ববিরোধিতা (discrepancy) বৈপরীত্য রয়েছে। আপনি আপনার বাবার ধারেকাছেও
নেই। আপনার বাবার মতো রক্ত দেয়ার কোনো প্রস্তুতি আপনার নেই, বরং আপনি
শিশুদের হত্যা করে বাবাদের রক্ত নিচ্ছেন, যেমনটি আপনার বাবা হিটলারের মতোই
বাংলাদেশের প্রতিটি পিতার সন্তানদের রক্ত নিয়েছে।
· সানা দীন মনে করেন : রক্ত নিয়ে লেখা বন্ধ করার এটাই প্রকৃষ্ট সময়। আপনি
আপনার পিতা থেকে উত্তম হতে পারেন । রক্ত দেয়ার নির্বোধ বক্তব্য ছাড়ুন।
বাংলাদেশের জনগণ আপনার রক্ত চায় না। তারা আপনার ভালোবাসা চায়। একটি দলের
নেত্রী হিসেবে এবং একজন মহিলার মুখে এমন ধরনের বক্তব্য অসুস্থ মানসিকতার
পরিচয় বহন করে। প্রাচীন প্রবাদ বলে, ডাণ্ডা দিয়ে আপনি একটি মৌমাছিও ধরতে
পারবেন না, কিন্তু মধু দিয়ে মৌমাছি ধরতে পারবেন। এটা হলো সহজতম উপায়। লোভের
বশীভূত হয়ে এবং আপনার দলের মানুষদের অসুস্থ মানসিকতার কারণে আপনি আপনার
রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস করেছেন। তাদের নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ক্ষমতা আপনার নেই।
যদি আপনি তা চান, তবে ধীরে ধীরে তা করতে পারেন। কিন্তু এজন্য প্রথমে আপনি
আপনাকে শুধরিয়ে নিন। ...
· আহমেদ আরিফ লিখেছেন : যিনি লঞ্চ ভ্রমণে নিরাপত্তার জন্য পুরো এক দিন
দেশের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল বন্ধ করে দেন, যিনি কোথাও যাওয়ার আগে সে রাস্তা
৫ ঘণ্টা আগে বন্ধ করে দেন, যিনি বুলেটপ্রুফ বাক্সের ভেতর দাঁড়িয়ে জাতীয়
সংগীত গান, তিনি ‘প্রয়োজনে বাবার মতো বুকের রক্ত দেব’ বলেন, তখন কি আর
আবেগে না কাইন্দা পারা যায়?
· ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষার্থীর প্রশ্ন : বাবা বাকশাল করে রক্ত
দিছেন, আপনি কেন ব্লাড (রক্ত) দিবেন? এমন কী কাজ করেছেন যে, আপনাকে রক্ত
দিতে হবে? আপনি একনায়ক (ডিক্টেটর) তাই?
· ‘এই তো আমি’র মন্তব্য : তার বাবা স্বেচ্ছায় রক্ত দেননি, বরং তিনি ৩০
হাজার বাংলাদেশী মানুষকে খুন করেছেন। ওই রক্ত-শোষক তার অপকর্মের জন্যই খুন
হয়েছিলেন। হাসিনা তার পিতার ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছেন।
· রনি চৌধুরীর লিখেছেন : আপনি দেহরক্ষী ছাড়া জনগণের কাছে এসেছেন? আপনার বুকের রক্ত নেয়া হবে, আপনার ইচ্ছাটা পূরণ হবে।
শেখ হাসিনা তার বাবার মৃত্যু থেকে না হোক, অন্তত এসব মন্তব্য থেকে শিক্ষা
নিতে পারতেন। শেখ মুজিব যে যে কারণে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা
হারিয়েছেন, সেগুলো পরিহার করে শেখ হাসিনা জনগণের কাছে নেমে আসতে পারতেন।
ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণের ভোটাধিকার ছিনতাই করে নিজেকে নির্বাচিত
প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধান হিসেবে দাবি করে তিনি প্রমাণ করেছেন তার
বিবেক থেকে ন্যায়-অন্যায়ের অনুভূতি মরে গেছে। পবিত্র কোরআনে সুরা নিসার
৪২নং আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে : তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ো না
এবং জানা সত্যকে তোমরা গোপন কোরো না। অন্যদিকে মহানবীর একটি অতি পরিচিত
হাদিসে বলা হয়েছে : যখন তোমার উত্তম কাজ তোমাকে আনন্দ দেয় এবং মন্দ কাজ
পীড়া দেয়, তখন তুমি প্রকৃত মোমেন। মদিনা সনদ বাস্তবায়নে ওয়াদাবদ্ধ শেখ
হাসিনাই এখন ঠিক করুন তার অবস্থান আসলে কোথায়?