দেশজুড়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (এইচএসসি) শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ছিল ঢাকা
বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই
প্রশ্নপত্রের সব সেটই ফাঁস হয়ে যায়। ফলে পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়
কর্তৃপক্ষ।
এভাবে গত দুই বছরে হওয়া বেশিরভাগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রই ফাঁস হওয়ার ঘটনা
ঘটেছে। প্রাথমিক সমাপনী থেকে শুরু করে জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি, দাখিল,
এইচএসসি, আলিম, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা এমনকি বিসিএসসহ সরকারি চাকরির
পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। এভাবে একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র
ফাঁসের মহোত্সব আগে কখনও শোনা যায়নি। মজার বিষয় হচ্ছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে
বিষয়টি স্বীকার না করে পরীক্ষা নেয়া শেষ করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে
স্বীকার করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়ার কথা শোনা যায়নি। তবে প্রাথমিক স্কুলের
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর কয়েকটি জেলার পরীক্ষা
বাতিল করা হয়। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত কারা সেটা অন্ধকারেই থেকে
গেছে। তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখার কারণ অনুমান করা কঠিন নয়। ক্ষেত্রবিশেষে
লোকদেখানো ব্যবস্থা হিসেবে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা শোনা গেলেও তার ফলাফল আর
জানা যায়নি।
শেখ হাসিনার দুই মেয়াদের সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নিজে ও অন্যরাও সফলতা নিয়ে
গলা ফাটাতে পিছিয়ে থাকে না। তার আমলে পরীক্ষার ফলাফল, শিক্ষার মান, শিক্ষা
প্রসারের উন্নতি নিয়ে কত কথাই না বলা হয়। অথচ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে
কেউই রা কাটেন না। সাফল্যের মুকুটে আর একটি পালকের জন্য কি নকলমুক্ত
পরীক্ষা নিশ্চিত করতে আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হচ্ছে? এর সঙ্গে জড়িতরা কি
ক্ষমতাসীনদের কাছের লোক? এসব প্রশ্ন শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার
মুখে মুখে ফিরছে।
ফলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০
এবং সংশোধনী ১৯৯২-এর চার নম্বর ধারায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণের
সঙ্গে জড়িত থাকার শাস্তি হিসেবে ন্যূনতম ৩ বছর, সর্বোচ্চ ১০ বছরের
কারাদণ্ডসহ জরিমানার বিধান থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। এই হলো আওয়ামী লীগ
সরকারের আইনের শাসনের নমুনা। শিক্ষার মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দেয়ার মতো এমন
গুরুতর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁসে
উত্সাহিত হয়ে ওঠাই স্বাভাবিক। তরা এখন সিন্ডিকেট করে মাঠে নেমেছে। আওয়ামী
সিন্ডিকেট বলেই কি কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না?