সংখ্যালঘুদের নিয়ে আওয়ামী রাজনীতি

একটি গল্প দিয়ে লেখাটি শুরু করতে চাচ্ছি। এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘ঠাকুর ঘরে কে রে?’ তিনি বললেন, ‘আমি কলা খাইনি।’ তার মানে মূল প্রশ্নের জবাবের ধারে-কাছে তিনি যাননি। আমাদের দেশে দেশ পরিচালনায় নেতাদের কিছু কাণ্ড দেখে শুধু কষ্ট পায় না, মাঝে মাঝে হাসি পায়। পৃথিবী পরিবর্তনশীল, তাই সময়ের স্রোতে আমরাও এর বিপরীত ধারাতে চলতে চাই না। সময়ের তালে তাল মিলিয়ে চলাকে অনেকে স্মার্ট মনে করি। আর অতীতকে ভুলে যাওয়াটা এক ধরনের ট্র্যাডিশনে পরিণত হয়েছে। বলে থাকি, চধংঃ রং ঢ়ধংঃ; আর এই ঐতিহ্যকে ধারণ করতে গিয়ে অনেক সময় সত্যের সাময়িক পরাজয় ঘটে। আর এগুলো কোনো টেনশন ছাড়া আমাদের দেশের নেতারা দাম্ভিকতার সঙ্গে করে যাচ্ছেন। এক ধরনের বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক আছেন। কেউ টকশোতে ইচ্ছেমতো জ্ঞান দিয়ে চলে যান, আবার কেউ সিন্ডিকেট নিউজ দিয়ে ঝাল মেটান। সব মিলে তারা অনেক ফায়দা লুটলেও ভুক্তভোগীরা থাকে ন্যায়বিচারের আড়ালে। আর এই বিচার নামের পাঠশালাতে অনেককে বিনা অপরাধে মুখোমুখি হতে হয়। ধামা চাপা পড়ে যায় সত্য ঘটনা। আর বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কাঁদে। এক্ষেত্রে অনেকের পাণ্ডিত্য জাহির ও কথার ঠেলায় কাবু হতে হয়। যাদের বয়স একটু বেশি, আর যদি সে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের তালিকায় নাম লেখায়, তাহলে তো কথা নেই, সে-ই তো ইতিহাসবিদ। সে-ই সবজান্তা। আর সবাই...। তবে ছল-চাতুরী দিয়ে বেশি দূর এগুনো যাবে না। একদিন সচেতন নাগরিকের জয় হবে হবেই। গ্রামীণ একটা প্রবাদ— হায়রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ। সমাজজীবনে অনেক মানুষ মেলে যারা অনেক ধনী কিন্তু ফকিরের হালতে থাকে। অনেকে চোখওয়ালা কিন্তু অন্ধের ভূমিকায় নফসের খায়েশে অন্ধ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এখানে একটা বিষয় হলো, কেউ যদি নিজের ব্যক্তিত্ব না বোঝে, তাহলে তাকে বোঝানো দুঃসাধ্য। আমাদের বর্তমান সমাজ রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার কিছু নায়কের ক্ষেত্রে এমন চরিত্র দেখে হতচকিত হওয়ার মতো। তারা অন্যের গালে ঝাল খেতে চান। কিন্তু নিজে বিষয়টি জানতে ও উপলব্ধি করতে চেষ্টা করেন না।
আমার জন্ম স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়ে না হওয়ায় অনেক সত্য কথা বললেও হয়তো বা অনেকে বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু যারা তত্কালীন সময়ে জন্মেছেন তারা যদি মিথ্যা বলেন তাহলে অনেকে অকপটে বিশ্বাস করবেন। কারণ তাদের তো একটা সার্টিফিকেট আছে। যা হোক সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া একটি স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করব। যদি আমার লেখার তথ্য ও বাস্তবতা মেলাতে পাঠক ও সুধীবৃন্দ সক্ষম হন এবং প্রকৃত সত্যকে উদঘাটন করার চেষ্টা করেন, তাহলে আজ হোক কাল হোক মিথ্যার পরাজয় ঘটবে। সত্যের আলোর ফোয়ারা জ্বলে উঠবে গোটা সমাজব্যবস্থায়। সেই প্রত্যাশায় সমকালীন আলোচিত বিষয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও নেপথ্যের নায়করা কারা—এই বিষয়ে আলোকপাতের প্রয়াস। প্রবাদে আছে বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়। আমগাছ লাগিয়ে যেমন কাঁঠাল আশা করা যায় না, ঠিক তেমনি বিদ্বেষী মন নিয়ে সত্যকে খোঁজা যায় না। রাজনৈতিক কোর্টের খেলোয়াড়দের গাদন খেলা দেখে সত্যিই আপসেট হওয়ার মতো। আমাদের রাজনীতিবিদরা বাছবিচার না করে হুইমজিকাল বা এলোমেলো বক্তব্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে বড় ওস্তাদ। কখনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা, আবার কখনও বলেন—অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখিত, তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি খতিয়ে দেখব। আবার কখনও বলেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা জড়িত। রাজনীতির এই মারাত্মক খেলায় অপরাধীরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর ভুক্তভোগীদের সঙ্গী হয় দুঃখরা। রাজনীতিবিদরা কথায় চিড়ে ভিজিয়ে এমন বক্তব্য দেন যেন মনে হয় আগামীকাল থেকে কোনো অপরাধযজ্ঞ ঘটবে না। অথচ তারাই থাকে এই অপরাধকর্মের কমান্ডার। আর নষ্ট চরিত্রের রাজনীতিবিদরা পারেনও বটে। যখন-তখন খোলস বদলে ফেলতে পারেন। বিগত পাঁচ বছরে কিছু ঘটনা চোখের সামনেই ঘটে গেল। কোনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সুবিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে, এমনটি কেউই বলতে পারবেন না। শুধু মুখস্থ একটা বক্তব্য—অমুক করেছে, অমুক করেছে। বর্তমান সরকার একটি অপরাধকর্মকে ঢাকার জন্য আরেকটি অপরাধের জন্ম দিয়েছে। ধরুন, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, আবুল হোসেনের পদ্মা সেতু, সুরঞ্জিতের রেল, সাভার ট্র্যাজেডি, শাপলাচত্বরে হেফাজতের কর্মীদের হত্যা, তামাশার নির্বাচন, অতঃপর সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন। শেষ পলিসি বন্দুকযুদ্ধের নাটক। একটি ঘটনাকে আড়াল করতে অন্যটির সৃষ্টি। দীর্ঘ একটি সময় এই দেশে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করার সুবাদে এ কথা দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারি—সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়নি। বরং অনেকের সঙ্গে ঘটেছে হৃদ্যতার বহিঃপ্রকাশ; অথচ আজ দেখতে পাচ্ছি অন্য রকম একটা নাটক। যখন আওয়ামী মহাজোট ৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তামাশার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে জনগণের রিসিপশন ও রেসপন্স পাচ্ছে না, ঠিক তখনই ভিন্ন খাতে রাজনৈতিক গলিপথে একটি খেলা শুরু করে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকে একটি নাটক বলতে পারি, যাতে করে সবার নজর ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ক্ষমতার মসনদে স্থায়ীভাবে টিকে থাকার এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায়। আর তারা অন্যের ওপর দায় এড়াতে বেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। যশোর, বরিশাল, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায়। যেটি জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দোষ চাপালেও আসল নায়ক হলো আওয়ামী নেতাকর্মীরা। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য কিছু সত্য ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা।
১. সাতক্ষীরার দেবহাটায় পারুলিয়া গ্রামে সুনীত সরকারের বাড়িতে আগুন দিয়ে পালানোর সময় আটক যুবলীগ নেতা আবদুল গাফফারকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৩ সাতক্ষীরা জেলার ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের আদালত গাফফারকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠায়, যেটি মিডিয়ার কল্যাণে কারো অজানা নয়।
২. বগুড়ার শাহাজানপুর ১৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আবদুর রউফ ও তার বাহিনীর সদস্যদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়। গত ২ ডিসেম্বর, ২০১৩ চকজোড়া হিন্দুপাড়ার বেনু চন্দ্র মোহনের বাড়িতে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে ঢুকে বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ তুলে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা চলে যায়। তাদের অত্যাচারের প্রতিবাদে হিন্দু সম্প্রদায় গত ৩ ডিসেম্বর প্রতিবাদ-সমাবেশ করে। শাহজাহানপুরের ওসি মাহমুদুল আলম তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
৩. ২ নভেম্বর, ২০১৩ পাবনার সাঁথিয়ায় বনগ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে। হামলার বাদী বাবুল সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ১০ জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে রাখা হয়েছে। দায়ের করা মামলার একজন আসামিও তাদের মধ্যে নেই। বাদীর পরিবারের সদস্যরা মন্ত্রী ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রকৃত আসামিদের বাদ দিয়ে যারা আমাদের সেদিন বাড়িতে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে প্রাণ ও সম্পদ বাঁচিয়েছিলেন তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
৪. পাবনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুকে দায়ী করেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ‘ফোরাম-৭১’ আয়োজিত আতাইকুলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা তার সঙ্গে ঘুরে বেড়ায় আর পুলিশ খুঁজে পায় না। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী হিন্দুদের ওপর যে হামলা হয়েছে সে ব্যাপারে ৩ জানুয়ারি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, জামায়াত-শিবিরের ওপর দোষ চাপানো (সরকারি) গল্প। তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের হামলার দায় শুধু চাপিয়ে পার পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে কারা জড়িত তা আমরা জানি (সরকারি দল)। নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় জামায়াত-শিবির জড়িত—এটা একটা স্লোগানে পরিণত হয়েছে। বাস্তবে এমনটি নয়, বরং আওয়ামী লীগই এর সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘর এবং মন্দিরে হামলার ঘটনার পর বিবিসিকে তিনি এ কথা বলেন। সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে সেটা এখন রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের ওপর চাপানোর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামলাকারীদের বিচারের আওতায় না আনার একটি সংস্কৃতি চালু হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বরাবরই বিরোধী পক্ষকে দমন-নিপীড়ন করা একটি রেওয়াজ হয়ে গেছে। এই বিষয়ে একটি প্রবাদ মনে পড়ে গেল, ‘যাহা করেন গিন্নি বলেন কেষ্টা বেটাই চোর।’ দেশের কোনো প্রান্তে যে কোনো ঘটনার জন্য হরহামেশা যাচাই-বাছাই ছাড়াই বলা হয়, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবির জড়িত। সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, হরতাল সমর্থকদের ঝাঁকুনিতে এটি ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জে ত্বকি হত্যার পর জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করা হয়। পরবর্তীকালে আসল দোষীর খোঁজ পাওয়া যায়।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা গুলি করে ও অস্ত্র উঁচিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। তাদের আক্রমণে শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ অনেকে আহত হয়। অথচ ড. হাসান মাহমুদ বললেন, অস্ত্রধারীরা ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী। সাধারণ ছাত্রের ব্যানারে শিবির ক্যাডার ও জঙ্গিরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। মাননীয় আওয়ামী এই নেতার কাছে প্রশ্ন — জামায়াত-শিবির ওই আন্দোলনে যদি জড়িত থেকে ছাত্রলীগের মতো অস্ত্র প্রদর্শন করে থাকে, তাহলে কেন তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। শুধু ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের রক্ষার জন্য কি এত সাফাই! যারা অস্ত্র নিয়ে রাবিতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করল তাদের গ্রেফতার না করে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের নামে মামলা করল পুলিশ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, যে বা যারাই জড়িত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সর্বোপরি এটাই বলতে পারি, অপরাধীরা বীর দর্পে ঘুরে বেড়ায় আর নিরীহ মানুষই বারবার জুলুমের শিকার হয়। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রাসুল (সা.)-কে অবমাননার অজুহাতকে পুঁজি করে রামুর মণ্ডলপাড়া থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগ নেতার ভাই হাফেয মোহাম্মদ। জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী মত্স্যজীবী লীগের রামুর সভাপতি আনসারুল হক ভুট্টো। মিছিলটি থেকে শেষে চৌহমুনী চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে বৌদ্ধ বসতিতে হামলার উসকানি দেয়া হয়। (সূত্র : দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৬ অক্টোবর ২০১২, পৃষ্ঠা-১৬) উখিয়ার কোটবাজার স্টেশন থেকে বের হয় আরেকটি মিছিল। এখান থেকে হামলা করা হয়েছিল পূর্ব রত্না পাল সুদর্শন বৌদ্ধ বিহারে। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন হলুদিয়া পালং ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরী। (সূত্র : দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৫ অক্টোবর ২০১২, পৃষ্ঠা-১) গত ৫ মার্চ মঙ্গলবার ২০১২, বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদরাসা শহীদ মিনার ভাঙচুরের সময় ধরা পড়ে শহর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তবিবুর রহমান টিপু। অথচ সেখানেও জামায়াত-শিবিরকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র চলছিল। সংখ্যালঘুদের ওপর ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় কারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়, তা এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে। আর এই সব নাটকীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতন দেশবাসী সোচ্চার হয়ে রুখে দাঁড়ান।

No comments:

Post a Comment