হঠাত্ করেই দুদককে বেশ সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগের মন্ত্রী,
এমপিদের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডেকে ডেকে। প্রায়
প্রতিদিনই কোনো না কোনো নেতাকে মিডিয়ায় নিজেদের সাফাই গাইতে দেখা যাচ্ছে।
দুর্নীতি প্রমাণ হলে সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেয়ার ঘোষণাও শোনা যাচ্ছে। অর্থাত্
তাদের মনের জোর শেষ হয়ে যায়নি। হয়তো তারা জানেন যে শেষমেশ কিছুই প্রমাণ
করা যাবে না। দল আছে না ক্ষমতায়!
পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যা হলো তাতে এরকম ভাবা অসম্ভব নয়। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাকে সরিয়ে দিয়েই সবকিছু ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। এখন যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তাদেরকে মন্ত্রিত্বে রাখা হয়নি ঠিকই কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে সে ভরসা রাখা কঠিন। সেরকম কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। তবে এর মধ্যেই মন্ত্রী-এমপি, দলীয় নেতাদের সম্পর্কে যা কিছু প্রকাশ হয়ে পড়েছে তাই-বা কম কিসে। পাঁচ বছর মন্ত্রী-এমপি থাকার পর যদি সম্পদ বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে তবে তো বোঝাই যায় তারা কী ধরনের সেবা করেছেন। কারই-বা সেবা করছেন?
এক্ষেত্রে আলোচিতদের সামনের সারিতে রয়েছেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান। তাকে ২০ ফেব্রুয়ারি দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঁচ বছরে তার সাকুল্যে ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকার সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১১ কোটি তিন লাখ টাকা। বার্ষিক আয় তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকা থেকে লাফ দিয়ে তিন কোটি ২৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। আর কক্সবাজারের এমপি বদির বার্ষিক আয় ২ লাখ ১০ হাজার ৪৮০ টাকা থেকে এখন ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা হওয়ার কথা গত সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। এছাড়া তার ভাই শুকুরের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিজিবি ইয়াবা ব্যবসার অপরাধে মামলা করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের অবৈধ সম্পদের বেশিরভাগই তার মন্ত্রিত্বের প্রভাব খাটিয়ে করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। পাঁচ বছর আগে তার কৃষিজমি ছিল মাত্র ২০ একর। এখন সেই জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৬৫ একর। এই অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর সাবেক মন্ত্রীর স্ত্রী হঠাত্ করেই অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে গচ্ছিত টাকাসহ। এমন ধারণা খোদ দুদকের। রাজশাহীর তরুণ এমপি এনামূল হক এনার সম্পদও সম্ভবত আলাদিনের চেরাগের ছোঁয়ায় বেড়ে গেছে। পাঁচ বছরেই তার মোট সম্পদ প্রায় ১০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৮ কোটি টাকা হয়েছে বলে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, যা দুদকের কাছে অস্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছে। আওয়ামী লীগে এখন মন্ত্রী-এমপির সংখ্যা ঠিক কত সেটা জানার সুযোগ নেই। যদিও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেয়া নির্বাচনী ইসতেহার যাকে ঘটা করে ‘দিনবদলের সনদ’ বলা হয়েছিল সেখানে প্রতি বছর মন্ত্রিসভার সদস্যসহ এমপিদের সম্পদ বিবরণী জমা দেয়া ও প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা কাগজের লেখাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। কেন? সেটা বোঝা যাচ্ছে দশম সংসদ নির্বাচনের হলফনামার প্রকাশিত তথ্য থেকে।
ঠিক কীভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জিত হয়েছে তারও কিছু ছিটেফোঁটা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। দুর্নীতি, লুটপাট, অপরের জমি দখল, ক্ষমতার জোরে ব্যবসা বাগিয়ে মুনাফা লোটার মতো অপকর্মের শেষ নেই। মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা বর্তমানে স্বতন্ত্র এমপি হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে তো এখন ছাত্রলীগই রাস্তায় নেমেছে। রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ের (জবি) তিব্বত হলটিসহ অনেক সম্পদ বছরের পর বছর ধরে দখল করে থাকার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। হাজী সেলিমসহ অন্য ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে জমির শত শত কোটি টাকার সম্পদ দখল করে রাখার বিরুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষকরা আন্দোলন শুরু করলে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হয়। তাদের টোকাই, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী অভিহিত করেন এমপি। এভাবে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে অন্তর্দ্বন্দ্ব যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে তাতে শেষ পর্যন্ত দলের বা সরকারের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও এতে করে যে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়তে শুরু করেছে সেটা পরিষ্কার। আর বর্তমান সরকার প্রহসনের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে দুর্নীতিবিরোধী ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেয়ার যে কৌশল গ্রহণ করেছে তার ফলাফলই-বা কী হবে সেটা দেখার জন্যও অপেক্ষা না করে উপায় নেই। তবে অবস্থা দেখে মনে হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। মানুষ নিজেদের দুর্ভোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষমতাসীনদের অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলাকে মেনে নেবে বলে মনে হয় না। অতীতে গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থানের পেছনে এমন অবস্থার ভূমিকা অস্বীকার করা যাবে না।
পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যা হলো তাতে এরকম ভাবা অসম্ভব নয়। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাকে সরিয়ে দিয়েই সবকিছু ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। এখন যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তাদেরকে মন্ত্রিত্বে রাখা হয়নি ঠিকই কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে সে ভরসা রাখা কঠিন। সেরকম কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। তবে এর মধ্যেই মন্ত্রী-এমপি, দলীয় নেতাদের সম্পর্কে যা কিছু প্রকাশ হয়ে পড়েছে তাই-বা কম কিসে। পাঁচ বছর মন্ত্রী-এমপি থাকার পর যদি সম্পদ বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে তবে তো বোঝাই যায় তারা কী ধরনের সেবা করেছেন। কারই-বা সেবা করছেন?
এক্ষেত্রে আলোচিতদের সামনের সারিতে রয়েছেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান। তাকে ২০ ফেব্রুয়ারি দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঁচ বছরে তার সাকুল্যে ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকার সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১১ কোটি তিন লাখ টাকা। বার্ষিক আয় তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকা থেকে লাফ দিয়ে তিন কোটি ২৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। আর কক্সবাজারের এমপি বদির বার্ষিক আয় ২ লাখ ১০ হাজার ৪৮০ টাকা থেকে এখন ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা হওয়ার কথা গত সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। এছাড়া তার ভাই শুকুরের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিজিবি ইয়াবা ব্যবসার অপরাধে মামলা করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের অবৈধ সম্পদের বেশিরভাগই তার মন্ত্রিত্বের প্রভাব খাটিয়ে করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। পাঁচ বছর আগে তার কৃষিজমি ছিল মাত্র ২০ একর। এখন সেই জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৬৫ একর। এই অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর সাবেক মন্ত্রীর স্ত্রী হঠাত্ করেই অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে গচ্ছিত টাকাসহ। এমন ধারণা খোদ দুদকের। রাজশাহীর তরুণ এমপি এনামূল হক এনার সম্পদও সম্ভবত আলাদিনের চেরাগের ছোঁয়ায় বেড়ে গেছে। পাঁচ বছরেই তার মোট সম্পদ প্রায় ১০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৮ কোটি টাকা হয়েছে বলে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, যা দুদকের কাছে অস্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছে। আওয়ামী লীগে এখন মন্ত্রী-এমপির সংখ্যা ঠিক কত সেটা জানার সুযোগ নেই। যদিও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেয়া নির্বাচনী ইসতেহার যাকে ঘটা করে ‘দিনবদলের সনদ’ বলা হয়েছিল সেখানে প্রতি বছর মন্ত্রিসভার সদস্যসহ এমপিদের সম্পদ বিবরণী জমা দেয়া ও প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা কাগজের লেখাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। কেন? সেটা বোঝা যাচ্ছে দশম সংসদ নির্বাচনের হলফনামার প্রকাশিত তথ্য থেকে।
ঠিক কীভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জিত হয়েছে তারও কিছু ছিটেফোঁটা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। দুর্নীতি, লুটপাট, অপরের জমি দখল, ক্ষমতার জোরে ব্যবসা বাগিয়ে মুনাফা লোটার মতো অপকর্মের শেষ নেই। মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা বর্তমানে স্বতন্ত্র এমপি হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে তো এখন ছাত্রলীগই রাস্তায় নেমেছে। রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ের (জবি) তিব্বত হলটিসহ অনেক সম্পদ বছরের পর বছর ধরে দখল করে থাকার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। হাজী সেলিমসহ অন্য ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে জমির শত শত কোটি টাকার সম্পদ দখল করে রাখার বিরুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষকরা আন্দোলন শুরু করলে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হয়। তাদের টোকাই, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী অভিহিত করেন এমপি। এভাবে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে অন্তর্দ্বন্দ্ব যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে তাতে শেষ পর্যন্ত দলের বা সরকারের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও এতে করে যে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়তে শুরু করেছে সেটা পরিষ্কার। আর বর্তমান সরকার প্রহসনের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে দুর্নীতিবিরোধী ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেয়ার যে কৌশল গ্রহণ করেছে তার ফলাফলই-বা কী হবে সেটা দেখার জন্যও অপেক্ষা না করে উপায় নেই। তবে অবস্থা দেখে মনে হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। মানুষ নিজেদের দুর্ভোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষমতাসীনদের অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলাকে মেনে নেবে বলে মনে হয় না। অতীতে গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থানের পেছনে এমন অবস্থার ভূমিকা অস্বীকার করা যাবে না।
No comments:
Post a Comment