৪৩ বছরের মধ্যে রাষ্ট্র বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ফ্যাসিবাদী ও বিধ্বংসী রূপ
নিয়েছে উল্লেখ করে আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্টজনরা বলেছেন, ৫ জানুয়ারির
লাজ-লজ্জাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর দেশে বিচারবহির্ভূত
হত্যা, গুম-অপহরণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। পুরো দেশে বর্তমানে শ্বাসরুদ্ধকর
পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মিথ্যা সৌধের ওপর টিকে আছে সরকার। দেশে বর্তমানে
ফ্যাসিবাদ ও গণতন্ত্রের লড়াই চলছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এখানে কোনো
গণতন্ত্র নেই। কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করলেই তার লাশ নালা-ডোবায় পাওয়া যাচ্ছে।
রাষ্ট্র যেখানে ক্রমাগত বাকশাল ও ফ্যাসিবাদের পথে ধাবিত হচ্ছে সেখানে
মানবাধিকারের বিষয়টি নিতান্তই হাস্যকর। গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক
সেন্টারে ‘কনসালটেশন
অন পোস্ট-ইউনিভার্সাল পিরিয়ড রিভিউ (ইউপিআর) হিউম্যান রাইটস সিচুয়েশন ইন
বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূল্যায়ন সভায় দেশি-বিদেশি মানবাধিকার কর্মী, রাজনীতিক,
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন।
সুইজারল্যান্ড অ্যাম্বাসির সহযোগিতায় মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এ সভার আয়োজন
করে। অধিকারের সভাপতি সি আর আবরার-এর সভাপতিত্বে ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট
আদিলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন নির্যাতন বিরোধী
আন্তর্জাতিক সংগঠনের (ওএমসিটি) চেয়ারম্যান ইয়াভিস বার্থলট, সিনিয়র
সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না,
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, অধিকারের নির্বাহী সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী ফরিদা
আখতার, ইইউ বাংলাদেশ ডেলিগেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়া জ্যাকোবি, আমার
দেশ-এর বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা
হোসেন, নাগরিক উদ্যোগের নেতা জাকির হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির
সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, টকশো ব্যক্তিত্ব কাজী জেসিন, অনলাইন পত্রিকার
সম্পাদক তানভীর এ চৌধুরী প্রমুখ।
আলোচনার শুরুতেই অধিকারের সভাপতি সি আর আবরার মে ২০১৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৪
পর্যন্ত ১০ মাসে দেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই
সময়ে ২৪৫টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৭৬ জন তথাকথিত
ক্রসফায়ারে, ১২ জন নির্যাতনে, ১৫৩ জন গুলিতে এবং ৪ জন মারধরে নিহত হয়েছে।
একই সময়ে ২৮ জন অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। গত সাধারণ নির্বাচনে এর মাত্রা ছিল
অনেক বেশি। এসব অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের অধিকাংশই ছিল বিরোধী রাজনীতিক।
তিনি বলেন, এ সময়ে ৪৮ জন ব্যক্তি কারাগারে নিহত হয়েছে। একই সময়ে সাংবাদিকরা
নির্যাতন ও হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। ৮৯ জন সাংবাদিক আহত ও নির্যাতিত ১৪ জন
হুমকির শিকার হয়েছেন।
এ সময় তিনি সরকারের আইসিটি আইন প্রণয়ন, সংসদে টিআইবি ও সুজনসহ সুশীল সমাজের সমালোচনা ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ চেষ্টার সমালোচনা করেন।
নির্যাতন বিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠনের (ওএমসিটি) সভাপতি ইয়াভিস বার্থলট
বলেন, যে কোনো দেশে গুড গভর্নেন্সের জন্য সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও
মানবাধিকার কর্মীদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে আইন শৃঙ্খলা
বাহিনীর হাতে নির্যাতন-অপহরণের ঘটনা ঘটে থাকে। সরকারকেই এসব নির্যাতনের
বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখতে হবে। এজন্য তিনি বাংলাদেশের এনজিও ও কমিউনিটি
সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব সংগঠন বিভক্ত থাকলে
সরকার সব সময় সুবিধা নিয়ে থাকে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ৫ জানুয়ারির এমন
নির্বাচনের পর দেশে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই। সরকার প্রতিনিয়ত নির্জলা
মিথ্যাচার করছে। সেটা প্রধানমন্ত্রী নিজেও ভালো করেই জানেন। আদালতকে
স্বাধীনতা দিলে বর্তমান সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে এটা প্রধানমন্ত্রীও
জানেন। এ সরকারের লিগ্যাল কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, ডিজিএফআই’র একটি সেল গঠন করা
হয়েছে টকশোসহ মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এগুলো
মনিটরিং করছেন। তিনি বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলার
প্রধান আসামিকে মেরে ফেলাসহ ক্রসফায়ার, গুম-অপহরণের সব ঘটনার সিদ্ধান্ত
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে নেয়া হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে সবাইকে
দাঁড়াতে হবে। বিরোধী দলও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এজন্য গ্রামগঞ্জের
মানুষ কারও কাছে ভরসা রাখতে পারছে না। এসব মানুষ এক সময় ঠিকই ঘুরে
দাঁড়াবে। মানুষ প্রতিনিয়ত কিছু একটা খুঁজছে। রাস্তায় নামলে মানুষের নিশ্চিত
সাড়া পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে বিরোধী দল ভূমিকা রাখতে না পারলে অধিকারসহ
নাগরিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার অধিকার, সুজন, টিআইবিও মিডিয়াকে
ভয় পাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বলা হয়েছিল সংবিধান রক্ষার নির্বাচন,
এখন বলা হচ্ছে ৫ বছর তারা ক্ষমতায় থাকবে। সরকারের আচরণে মনে হয় তারা
অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকবে।
সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে
কখনও ভিন্নমত সহ্য করতে পারেনি। তারা মাত্র ১১ মিনিটে দেশের বহুদলীয়
গণতন্ত্র হত্যার পর এবার সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল
করেছে। কেউ পক্ষে হলেই মুক্তিযোদ্ধা আর বিরুদ্ধে হলে রাজাকার আখ্যা দেয়া
হচ্ছে। এগুলো ফ্যাসিবাদী মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
বর্তমানে ফ্যাসিবাদ ও গণতন্ত্রের লড়াই চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে
কোনো গণতন্ত্র নেই। কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করলেই তার লাশ নালা-ডোবায় পাওয়া
যাচ্ছে। তিনি বলেন, ৫ মে হেফাজতের ৬১ জন নিহতের তথ্য প্রকাশ করে অধিকারের
সম্পাদক আদিলুর রহমান কারারুদ্ধ হলে বিএনপি আমলে ২৪ হাজার নেতাকর্মী হত্যার
অভিযোগকারী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের কী হওয়া উচিত?
কিন্তু তারপরেও তার কিছুই হয় না। এসবের বিরুদ্ধে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হতে না
পারলে শুধুমাত্র সভা-সমাবেশ করে রক্ষা হবে না। আমাদের সময় এসেছে রাস্তায়
নামার। সেটা রাজনৈতিক নয়, নাগরিক ব্যানারে। এর কোনো বিকল্প নেই।
ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, দেশ যেভাবে ক্রমাগতভাবে বাকশালের দিকে ধাবিত হচ্ছে
এটা মেনে নিলে মানবাধিকারের বিষয়টি হবে হাস্যকর। দেশে যেভাবে ক্রসফায়ার,
গুম ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে এটা সরকারের বাহিনী করে থাকলে তাহলে রাষ্ট্রকে
অবশ্যই খুনি বলতে হবে। আর সরকার জড়িত না থাকলে তাদের উচিত হবে এর সঙ্গে
জড়িতদের বিচার করা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে নালিশ করা।
ভিন্নমতালম্বীদের দমন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় দীর্ঘদিন
কারারুদ্ধ রেখে ভিন্নমত দমনের অপচেষ্টা করার প্রচলন ছিল, এরপর ক্রসফায়ার
শুরু হলো। এখন অহরহ ক্রসফায়ারে নিহতদের লাশ ডোবা-নালায় পড়ে থাকতে দেখে
সমালোচনার জায়গা সৃষ্টি হওয়ার কারণে নতুন করে শুরু হয়েছে গুম-অপহরণের ঘটনা।
এটা বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একে আর রাষ্ট্র বলা যায় না।
৫ জানুয়ারির লাজ-লজ্জাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর দেশে
গুম-অপহরণের চেয়ে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটাও সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র
ক্রমাগত ফ্যাসিবাদী রূপ নিচ্ছে। বর্তমানে দেশে যেসব বিরোধী দল বিদ্যমান
রয়েছে তাদের একটিকে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে নিষিদ্ধের চেষ্টা চলছে। জাতীয়
পার্টিকেও অকেজো করে রাখা হয়েছে। বিএনপি নেত্রীকে তার দল থেকে বিচ্ছিন্ন
করে চরম মানসিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারের সমালোচনা
করায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে।
ইউপিআর কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউপিআর পদ্ধতির ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা
করতে হবে। যেখানে গণতন্ত্র নেই সেখানে ইউপিআর সম্পূর্ণ অকেজো। ইউপিআরকে
শুধু কাগজের প্রতিবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। দেশের বর্তমান
অবস্থার পরবর্তন ঘটাতে হলে সবাইকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম বলেন, রাজনীতির
কেন্দ্রবিন্দু গণতন্ত্র হলেও বর্তমানে দেশে গণতন্ত্রের পক্ষে ও বিপক্ষে
লড়াই চলছে। এটা বিএনপি-আওয়ামী লীগের লড়াই নয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের
সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অন্ধ স্তাবক ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে
না যে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিষ ঢেলে দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই
সংস্কৃতির কারণেই সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরের গাড়িবহরে হামলার চার
আসামিকে বিচার ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে। এর জন্য সংস্কতিমন্ত্রী লজ্জিত হয়
না। কারণ, তার লজ্জা চাপা পড়ে গেছে। অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান খানের
কারারুদ্ধের ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ২৪ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে যে
তথ্য দেয়া হয়েছে, আওয়ামী লীগ কি পারবে তার ২০ শতাংশের নাম ঠিকানা প্রকাশ
করতে? তা যদি না পারে তাহলে এসব মিথ্যা তথ্যের জন্য আওয়ামী লীগের সম্পাদককে
কারাগারে যেতে হয় না কেন? অথচ সত্য তথ্য প্রকাশ করার কারণে অধিকার
সম্পাদককে জেলে যেতে হয়।
পিয়াস করিম তার বাসায় ককটেল হামলার ঘটনায় ফারুক ও জসিম নামে দুই ছাত্রলীগ
নেতাকে পুলিশ আটকের পর গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তাদের ছাড়িয়ে নেয়ার ঘটনায়
উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের চলমান সঙ্কট থেকে উত্তরণে বিরোধী দল বিএনপি
কোনো ভূমিকা রাখতে না পারলে নাগরিক সমাজকেই এর দায়িত্ব নিয়ে সবাইকে রাস্তায়
নেমে আসতে হবে।
অধিকারের নির্বাহী সদস্য ফরিদা আখতার বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা
বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করতে গিয়েও আমাদের মানবাধিকার কর্মীদেরকেও রাষ্ট্রীয়
বাহিনী কর্তৃক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
আমার দেশ-এর বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী বর্তমান সরকার কর্তৃক আমার দেশ
পত্রিকাকে দুই দফায় বন্ধ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারারুদ্ধ করার
প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন আইনের তোয়াক্কা না করে সরকার
পুলিশ দিয়ে আমার দেশ-এর প্রেস সিলগালা করে দিয়েছে। আইসিটি আইনে পত্রিকার
সম্পাদককে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে বিনা বিচারে ১ বছর ধরে কারারুদ্ধ করে
রাখা হয়েছে। কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো
হয়েছে। আমার দেশ-এর মামলার শুনানির জন্য দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ আদালতের দ্বারে
দ্বারে ঘুরলেও আমাদের মামলার শুনানি করা হচ্ছে না। আমার দেশ পরিবার না
সরকার না আদালত কারো কাছেই ন্যায় বিচার পাচ্ছে না। এটা মানবাধিকারের চরম
লঙ্ঘন। তিনি অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি ও আমার দেশ-এর ছাপাখানা খুলে
দেয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে
সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে উল্লেখ
করে জাহেদ চৌধুরী বলেন, পুলিশের যে কোনো কর্মকর্তা এখন ইচ্ছা করলেই
মিডিয়ার যে কাউকে আইসিটি আইনে যে কোনো সময় গ্রেফতার করতে পারে। সরকার
ভিন্নমতের মিডিয়াকে সহ্য করতে পারছে না। সরকার সমর্থিত মিডিয়া থেকেও
ভিন্নমতের সাংবাদিকদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। কোন সভ্য রাষ্ট্র কখনও এভাবে চলতে
পারে না। এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে।
সাংবাদিক তানভীর চৌধুরী বলেন, সরকার জঙ্গি ট্রাম্পকার্ড খেলে বিশ্বের কাছে
বাংলাদেশকে খারাপভাবে উপস্থাপন করছে। তিনি বলেন, গত ৫ বছরে সবচেয়ে বেশি
ভুক্তভোগী হয়েছে মিডিয়া। এজন্য অধিকাংশ মিডিয়াই এখন আর সরকারের বিরুদ্ধে
কথা বলছে না। দেশের মূলধারার মিডিয়া সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বহু সত্য
ঘটনা ছাপা দিচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে
গণতন্ত্রকে বিপন্ন করার পরও পশ্চিমা বিশ্ব ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভূমিকার
সমালোচনা করেন তিনি।
নাগরিক উদ্যোগ-এর নেতা জাকির হোসেন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গুম,
হত্যা, নির্যাতনের সমালোচনা করে বলেন, সরকার জাতিসংঘে এসব হত্যাকাণ্ডের
ঘটনা ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বন্ধ হচ্ছে না। এ সময় তিনি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে র্যাবের ঘটনা তদন্তে সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব
করেন।
মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন রাষ্ট্রে গুম-অপহরণ ও আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর নির্যাতনের ঘটনা বন্ধে মানবাধিকার কর্মীদের ভূমিকা ও ইউপিআর এর
প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশা থাকলেও
ইউপিআরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একে কোনোভাবেই নির্মূল করার চিন্তা করা যাবে
না। রাষ্ট্রের এসব কর্মকাণ্ডের একটি চিত্র সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।
আইসিটি অ্যাক্টের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ আইনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার
কর্মীদের চেয়ে সাংবাদিকদের আরো বেশি প্রতিবাদ করতে হবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ৪২ বছরের মধ্যে
রাষ্ট্র বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ফ্যাসিবাদী ও বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। পুরো
দেশে আজ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মিথ্যা সৌধের ওপর সরকার টিকে
আছে। সরকারের কোনো কিছুই মানুষ গ্রহণ করছে না। ভিন্নমত রোধ করে বলা হচ্ছে
দেশ গণতান্ত্রিক। সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ালেই শুধু দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখানো হয় না।
একই সময়ে যখন বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনে গ্যাস ও বিদ্যুত্ উত্পাদন কার্যক্রম
বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেয়া হয় তখন সেটা কখনোই দেশকে ভালোবাসা হতে
পারে না।
টকশো ব্যক্তিত্ব কাজী জেসিন আইসিটি অ্যাক্টের সমালোচনা করে বলেন, এই আইন
মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করায় টিভি টকশো
নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু টকশো বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে
প্রতিনিয়ত ক্রসফায়ারে মানুষ মারা গেলেও সরকারের মন্ত্রীরা যখন বলেন,
ক্রসফায়ারে কেউ মারা যাচ্ছে না তখন আর বলার কিছু থাকে না। এর বিরুদ্ধে
আমাদের সবাইকে জোটবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।