গণতন্ত্রের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

আগের তিনটির চেয়ে চতুর্থ পর্বের উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে।’ এইচ টি ইমাম।
‘নির্বাচন হয়ে উঠেছে প্রহসন, প্রয়োজন আমূল সংস্কার।’ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
‘সহিংসতায় নিহত ৪, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই।’ বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা।
২৪ মার্চ একই বিষয়ে এ রকম পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এই তিনজনের মধ্যে কার কথা সত্য? লিগ্যাল জাস্টিসের যুক্তিতে, ‘আগের তিনটির চেয়ে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে।’ বাক্যটি সঠিক ও সুন্দর। এ কথা বলার পর অযথা তেড়ে উঠবেন না, মুরোদ থাকলে আমার সাথে আইনি যুক্তিতে অবতরণ করুন।
প্রথমত, রামায়ণ রচনা করার জন্য নারদ আদিষ্ট হয়ে দস্যু রতœাকর মহাকবি বাল্মীকি হওয়ার প্রাক্কালে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমি তো রামকে জানি না’। উত্তরে নারদ বলেন, ‘অযোধ্যার রাজা দশরথের ঔরস থেকে নয়, তোমার মনের ঔরস থেকে যে রামের জন্ম হবে সে রামই সত্য, সে রামই বেঁচে থাকবে।’ এখন যে রামকে আমরা পাই সে রাম অযোধ্যার দশরথের পুত্র রাম নয়, দস্যু রতœাকরের কাল্পনিক রাম। মহাকাব্য রামায়ণের কারণেই প্রকৃত রাম বিলুপ্ত হয়ে কাল্পনিক রাম বেঁচে রয়েছে।
 দ্বিতীয়ত, এইচ টি ইমামের কথার সমর্থনে রয়েছে রামায়ণের চেয়েও শক্তিশালী সাক্ষ্য প্রিজাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার, ইলেকশন কমিশনার, ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরসহ অসংখ্য দলিলদস্তাবেজ। এত দলিলদস্তাবেজের বিপক্ষে লড়ে কিছুই করা যাবে না। তার পরও রিয়েল জাস্টিস বলে কথাটা থেকেই যায়। দিন যায় রাত আসে, রাত শেষে আবার নতুন দিন শুরু হয়। মিডিয়ার লোকেরা ছুটে রিয়েল জাস্টিসের সন্ধানে আর মুজাহিদুল ইসলামরা কলম চালায় ভারাক্রান্ত হৃদয়ের ভার হালকা করার জন্য।
 চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচনের আওতায় পড়েছি আমরা। নদীবেষ্টিত উপজেলায় কোনো দিন কোনো সাংবাদিকও খুব একটা যেতে দেখিনি। আমাদের গাঁয়ে লাগেনি বিদ্যুতের ছোঁয়া। সামর্থ্যবানেরা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। তারপরেও অপরাপর এলাকা থেকে আমাদের গাঁ অধিকতর অপরাধমুক্ত। এক সময় গ্রামটি এক খণ্ডে ছিল। নদীভাঙনে চৌদ্দআনা গ্রাম বিলীন হয়ে এখন পাঁচ খণ্ডে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন ও ঈদ-পার্বণ ছাড়া গাঁয়ের লোককে কখনো একসাথে পাওয়া যায় না। গাঁয়ের লোক একসাথে পাওয়ার মজাই আলাদা। নির্বাচন উপলক্ষে গ্রাম থাকবে উৎসবমুখর। উৎসবমুখর পরিবেশ শেয়ার করার লোভ সামলাতে না পেরে ২২ মার্চ বাড়ি যাই।
 বাড়ি গিয়েই গ্রাম ঘুরতে বের হই। ঘুরতে গিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দোয়াত-কলম, ঘোড়া, কাপ-পিরিচ, উড়োজাহাজ, টেলিফোন ও হুন্ডা প্রতীকের ছড়াছড়ি দেখতে পাই। গাঁয়ের লোকের কাছে কাল নির্বচন, আজ চানরাইত। গ্রামে যে কয়টা দোকান সব ক’টিতেই রাত-দিন লোকজনের ভিড়। কোক, সেভেনপানিসহ সমানে চলছে চা-পান ও সিগ্রেট।
 গাঁয়ের দক্ষিণ দিকে খানিকটা দূরে স্কুল। স্কুলে নির্বাচন কেন্দ্র। বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে যাই স্কুলে। দেখি, দোয়াত-কলম প্রতীক দিয়ে স্কুলঘর ছেয়ে ফেলেছে। আনসারসহ কয়েকজন পুলিং অফিসারও উপস্থিত। দোয়াত-কলমের সমর্থকেরা তাদের সেবা-খেদমত করছে। খানাপিনার আয়োজনও তারাই করেছে বলে জানায়।
সন্ধ্যার দিকে ঝড়ের মতো শুরু হয়। আকাশ পরিষ্কার হয় ১০টায়। এর আগেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। স্বভাবসুলভ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠি। আমি ও আবুল হোসেন (মেঘনা কম্পিউটারের মালিক) হাঁটতে বের হই। হাঁটতে হাঁটতে এক আত্মীয় বাড়িতে যাই। আত্মীয়রা দোয়াত-কলমের সমর্থক। আমার সমর্থনের বিষয়টি টের পেয়ে আত্মীয়ের যুবক ছেলেটি বলে, ‘কোর্ট কামাই করে ভোট দিতে আসার দরকার ছিল না। আপনার কথামতো আপনার ভোটটা আমরাই দিয়ে দিতে পারতাম।’ আমি বিস্মিত হয়ে, ‘আমার ভোট তোমরা দিতে যাবে কেন? যার ভোট তারই দেয়া উচিত।’ এ কথায় প্রতিবাদ করে যুবক বলে, ‘পাবলিক মূর্খ, কাকে ভোট দিলে ভালো হবে এটি আমরা জানি, পাবলিক জানে না। আপনারা তো এলাকার উন্নয়নই চান। কাকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন হবে, এটা আপনিও ভালো জানেন। এখন যারা ক্ষমতায় আছে তাদের কথার বাইরে ভোট দিলে দেশের কাজ করবে দূরের কথা, পাঁচ বছর চেয়ারেই বসতে পারবে না। তাই দেশের দশ বাপ-ভাইকে হাতে ধরছি, পায়ে ধরছি, মিনতি করে বলছিÑ আপনারা গুরুজন, আপনাদের সম্মান করি, আমাদের বেয়াদব বানাইয়েন না। আমাদের অনুরোধ রক্ষা না করলে বেয়াদব হতে বাধ্য হবো। দেখতেই পাচ্ছেন, দেশ এখন আগের চেয়ে অনেক শান্তিতে আছে। আমাদের প্রার্থী পাস করলে শান্তি আরো বাড়বে। ক্ষমতাসীন দলের বাইরের লোক পাস করলে দেশের উন্নতি তো হবেই না, বরং আগের মতো দেশ আবার অস্থির হয়ে উঠবে। এত দিন আপনারা এলাকা চালাইছেন আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি, এখন আমরা এলাকা চালামু আপনারা দেখবেন।’ আরো বেফাঁস কথা শোনার ভয়ে মুখ বন্ধ করে চলে আসি।
 সকাল ৮টার দিকে খবর পাই, ক্ষমতাসীন দলের প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকের এজেন্ট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে আমি যেন তাদের সাহায্য করি। ব্যাপারটি আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে। আমি অপরাপর প্রতীকের এজেন্টদের সাথে নিয়ে কেন্দ্রের দিকে রওনা হই। তখন সকাল সাড়ে আটটা। এজেন্টসহ আমার পেছনে পেছনে রওনা হয় শতাধিক ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ। কেন্দ্রের কাছে যেতেই ক্ষমতাসীন দলের লিডার এগিয়ে আসে আমার সাথে কথা বলার জন্য। ‘এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না কেন’Ñ জানতে চাইলে বলে, ‘এজেন্ট দিতে হবে আমাদের কথামতো। নয়তো কেন্দ্রে গণ্ডগোল হবে। আপনি কি চান কেন্দ্রে গণ্ডগোল হোক?’ আমি প্রতিবাদ করে বলি, ‘এজেন্ট হয় প্রার্থীর কথামতো।’ ‘প্রার্থীর কথামতো এজেন্ট দিতে গেলেই গণ্ডগোল হবে, কেন্দ্রে যাতে গণ্ডগোল না হয় সে দায়িত্ব নিয়েছি আমরা। সরকারের কড়া নির্দেশ, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করা। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করার জন্য যা যা করতে হয়, সব কিছু করার দায়িত্ব আমাদের।’ এ কথার পর আমি বলতে বাধ্য হই, ‘সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ হবে প্রতিপক্ষের লোকজনকে কেন্দ্রে ঢুকতে না দিলে, মাথাও নেই ব্যথাও নেই।’ বিশেষ করে বিশেষ প্রতীকের একজনের নাম ধরে বলে, আমরা ‘উমুককে’ এজেন্ট হিসেবে কিছুতেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেবো না। এক কথায় অমুক প্রতীকের কোনো এজেন্ট এ কেন্দ্রে চাই না। এ জন্য যা যা করতে হয় সব করতে প্রস্তুত, জোর করে ঢুকতে চাইলে আমার লাশের ওপর দিয়ে ঢুকতে হবে। কথা বলতে বলতেই আমার পায়ের কাছে নত হয়ে, ‘আপনার দুইটি পায়ে পড়ি, আমাকে বেয়াদব বানাবেন না, আপনি আপনার ভোটটা আপনার মনমতো দিয়ে যান, কেউ কিচ্ছু বলবে না।’
 কাল থেকে যে ক’টি ছেলে আমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছে তারা আমার মতো কথার প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা, উচিত কথাও সামনে বলতে সাহস করেনি। আমার গাঁয়ে আমার ছেলেদের কারণে জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না দেখে পাথর হয়ে যাই।
আমি ভোট দিয়ে বাড়ি আসার পর গাঁয়ের ভোট দিতে না পারা লোকজন বাড়তে থাকে। তারা আমাদের উঠানে জড়ো হতে শুরু করে। সবাই ভোটকেন্দ্র থেকে ফিরে এসে এই মর্মে অভিযোগ করেন যে, ‘ভোট দিতে গিয়েছিলাম, দিতে পারিনি, আঙুলে কালি লাগিয়ে বলে, যাও তোমার ভোট দেয়া হয়ে গেছে।’ 
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরিস্থিতির বর্ণনাসহ বসে বসে টাস্কফোর্সপ্রধান (নির্বাচনী) বরাবর দরখাস্ত লিখি। নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি, কন্ট্রোলরুমসহ বিভিন্ন স্থানে টেলিফোন করি। টেলিফোন করে ‘ভোটারেরা যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে’Ñ এ মর্মে কাতর অনুরোধ জানাই। কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ ‘ব্যবস্থা নিই-নিচ্ছি’ বলে আশ্বাসও দেয়। সমবেত জনতা জোর করে ভোটাধিকার প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছিল। বারণ করেছি। কারণ নির্বাচনী নতুন আইনে ব্যালটপেপার কিংবা ব্যালটবাক্স রক্ষার জন্য গুলি করা জায়েজ। এনকাউন্টার করে মারার সমর্থনে অতিরিক্ত একটা গুলি বা পিস্তল খরচ করতে হয়, যা অনেক সময়ই জোগাড় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। নির্বাচন কেন্দ্রের এনকাউন্টারে মৃতব্যক্তির পাশে গুলি কিংবা পিস্তলের পরিবর্তে কয়েকটা ব্যালটপেপারই যথেষ্ট। তাই সংক্ষুব্ধ ভোটারদের বলেছি, ‘কর্তৃপক্ষ আসছে, তোমাদের ভোট প্রয়োগের ব্যবস্থা না করে যাবে না।’ বেলা ২টার পর স্পিডবোটে করে যখন আর্মিসহ ম্যাজিস্ট্রেট আসেন তখন ভোট কাটা প্রায় শেষ। কেন্দ্রে ভোটার ছিল না বললেই চলে। ‘উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে’ মর্মে প্রিজাইডিং আফিসারের রিপোর্ট নিয়ে ফিরে যাওয়ার পথে আমাদের লিখিত দরখাস্তখানা দিতে চেয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট তিলেকমাত্র ভ্রƒক্ষেপ না করে হনহন করে চলে যান। কষ্ট করে লেখা দরখাস্তখানা একজন টিভি মিডিয়ার হাতে তুলে দিয়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানো হয়।
রাত ৮টায় আমাদের কেন্দ্রে নি¤œরূপ ফলাফল পাওয়া যায়, দোয়াত-কলম পেয়েছে ১১২২টি ভোট, আর অপর পাঁচজন সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ৫০টির মতো ভোট।
 সারা দেশসহ এই কেন্দ্রের গত কয়েকটি নির্বাচনের ফলাফল পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, প্রথম দফায় উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ৩৪, বিএনপি-জামায়াত (৪৫+১২) ৫৭টি আসনপ্রাপ্ত হয়। দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ ৪৬, বিএনপি-জামায়াতপ্রাপ্ত হয় (৫২+৮) ৬০টি। তৃতীয় দফায় আওয়ামী লীগ ৪০, বিএনপি জামায়াত (২৭+৮) ৩৪টি এবং চতুর্থ দফায় আওয়ামী লীগ ৫৬, বিএনপি-জামায়াত (২৩ +৫) ২৮টি আসন লাভ করেছে।
আরো একটু পেছনে তাকানো যাক, ২০০৮ সালে আমাদের এই গাঁয়ে প্রথম ভোটকেন্দ্র স্থাপিত হয়। ২০০৮ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে ধানের শিষ ৭৭৩টি এবং নৌকা পেয়েছিল ৩০৫টি ভোট। অর্থাৎ যে বছর আওয়ামী লীগ সর্বাধিক আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছিল, সে বছরও এই গ্রামে ধানের শিষের অর্ধেকেরও কম ভোট পেয়েছিল নৌকা।
আমাদের দেশের রাজনৈতিক কালচার এমনই উদ্ভট যে, ‘ক্ষমতায় গিয়ে অহর্নিশি কাজ করলেও জনপ্রিয়তা কমে যায় আর ক্ষমতার বাইরে থেকে নাকে তেল দিয়ে ঘুমোলেও জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।’ চার দশক থেকে চিরায়ত এই নীতির কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ব্যত্যয় ঘটেনি বলেই ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতার শেষ দিকে চার-চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের ধারাবাহিকতা বহাল ছিল। ক্ষমতাসীন দলের কোন জাদুর কাঠির স্পর্শে গণেশ পাল্টে গেল? আলাদিনের চেরাগের অলৌকিক দৈত্য, ঐশ্বরিক মাজেজা কিংবা গণেশ পাল্টানো ছাড়া জনপ্রিয়তার এই উল্টা জোয়ার কী করে সম্ভব?
এখন আমরা সব সম্ভবের দেশে বাস করছি। বিরস আলোচনার শেষে সরস আলোচনা না করলে পরিস্থিতির গুমোট কাটবে না। গুমোট কাটানোর জন্য গুরু-শিষ্যের গল্পটি বলতেই হয়। গুরু অন্ধ আর শিষ্য মূর্খ। মূর্খ শিষ্য অন্ধ গুরুকে পায়েস খাওয়াতে চায়। এ বিষয়ে গুরু ও শিষ্যের মধ্যে নি¤œরূপ কথোপকথন হয়েছিল, ‘পায়েস কেমন?’ পায়েস সাদা। ‘সাদা কেমন?’ বকের মতো ধবধবে। ‘বক কেমন?’ ইয়া লম্বা বগাকাঁচির মতো। ‘বগাকাঁচি কেমন?’ শিষ্য বগাকাঁচির যুতসই উপমা খুঁজে না পেয়ে দেয় এক দৌড়। গোয়ালঘরের সিলিং থেকে লোহার শাণিত বগাকাঁচি এনে গুরুর হাতে তুলে দেয়। গুরু নাড়াচাড়া করে, ‘নারে পায়েস খাবো না, গলা কেটে যাবে।’ অন্ধ গুরুর কাছে তিন চক্রে মোলায়েম পায়েস হয়ে পড়েছে শাণিত বগাকাঁচি। দশ চক্রে ভগবান ভূত হওয়ার খবর সবাই জানে।
শতবর্ষ থেকে ক্ষমতাসীনেরা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য গণতন্ত্রকে কখনো মৌলিক, কখনো যৌগিকরূপে ব্যবহার করতে করতে স্বৈরতন্ত্রে রূপান্তর করে ফেলেছে। অপারেশনের জন্য শানানো অস্ত্র যখন গলা কাটার কাজে ব্যবহার হয় তখনই এর ব্যবহার উপযোগিতা হারায়। রাজনৈতিক দুর্বুদ্ধিতে হৃদয়ের আশ (গণতন্ত্র) কখনো কখনো গলার ফাঁস হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় হয় গণতন্ত্রের চিকিৎসা করতে হবে, নয়তো করতে হবে বুদ্ধির চিকিৎসা। ব্যর্থতায় বাধ্য হয়ে করতে হবে গণতন্ত্রের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।
আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহাম লিংকন। ১৯ নভেম্বর ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে গেটিসবার্গের ভাষণে গণতন্ত্রের কালজয়ী, Government of the people, by the people, for the people shall not perish from the Earth. কথাটি বলার ঠিক দেড় বছরের মাথায় আততায়ী জন উইলস বুথের হাতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়েছিল আব্রাহাম লিঙ্কনের, আর ঠিক দেড় শ’ বছরের মাথায় আমাদের হাতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হতে চলছে গণতন্ত্রের।