বাংলা ভাষার আদি কবি ভুসুকু পা হরিণ-হরিণীর দুঃখ নিয়ে গান লিখেছিলেন। সে
গানে আছে ‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’। হরিণের শত্রু হরিণের নিজের মাংস।
শিকারিরা হরিণের মাংসের লোভে বন-বাদাড় উজার করে তোলে। আর হরিণগুলো নিজেদের
জান বাঁচানোর জন্য এক বন থেকে অন্য বনে দৌড়াতে থাকে। বহিরাগতদের অবিরত
আক্রমণের মুখে লেখা হাজার বছর আগে বাঙালি কবির এ গান আজও কেন আমাদের মনে
জাগ্রত হয়? বাঙালি জাতির নয়া বাস্তবতায় আমরা এ প্রশ্নটি যাচাই করতে চাই। এ
জাতির অবস্থা কি বনের হরিণের মতোই? বাইরে থেকে আগতদের অবহেলাই কি এ জাতির
সব বিপদের কারণ? বৌদ্ধ দোহার এ কবির চর্যাপদটি আমরা এখানে তুলে ধরতে চাই।
বাঙালি জাতির সর্বশেষ পরিস্থিতির সঙ্গে কি অতীত কাহিনীর কোনো যোগসূত্র আছে?
আসুন একবার পেছন ফিরে তাকাই।
ভুসুকু পা’র দোহাটি দেখুন :
কাহেরে
ঘিণি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল হাক
পড়অ চৌদীস।
আপনা
মাংসে হরিণা বৈরী।
খনহ ন ছাড়অ ভুসুকু অহেরি।
তিন ন
চ্ছুপই হরিণা পিবই ন পানী।
হরিণা
হরিণীর নিলঅ ন
জানী।
হরিণী বোলঅ
সুণ হরিণা তো।
এ বণ
চ্ছাড়ী হোহু ভান্তো।
তরংগতে
হরিণার খুর ন দীসঅ।
ভুসুকু ভণই
মূঢ়হি অহি ন
পইসই।
সুব্রত অগাস্টিন গোমেজে এর ভাবোদ্ধার নিম্নরূপ করেছেন।
কারে করি গ্রহণ আমি, কারেই ছেড়ে দেই?
হাঁক পড়েছে
আমায় ঘিরে আমার
চৌদিকেই।
হরিণ নিজের
শত্রু হ’ল মাংস-হেতু তারই,
ক্ষণকালের
জন্য তারে ছাড়ে না শিকারী।
দুঃখী হরিণ
খায় না সে ঘাস, পান করে না
পানি,
জানে না যে
কোথায় আছে তার হরিণী
রানি।
হরিণী কয়, হরিণ, আমার একটা কথা মান্ তো,
চিরদিনের
জন্য এ-বন ছেড়ে যা
তুই, ভ্রান্ত!
ছুটন্ত সেই
হরিণের আর যায় না দেখা খুরূ
ভুসুকুর এই তত্ত্ব মূঢ়ের বুঝতে অনেক দূর।
চার হাজার বছর ধরে বাঙালি জাতি বঙ্গীয় বদ্বীপে বসবাস করছে। বাঁচার সংগ্রামে এ জাতি তার নিজস্ব সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছে। তবে বারে বারে এ জাতি বহিরাগতদের দ্বারা শাসিত, নিগৃহীত ও অবহেলিত হয়েছে। নিজ বাসভূমি ছেড়ে তারা দূরে যেতে চেয়েছে। মোগল-পাঠান আমলে তারা পূর্বদিকে আরাকান রাজ্যে গেছে। থাকতে পারেনি। ব্রিটিশ আমলে বাঙালি কৃষক তার দেহের সব শক্তি দিয়ে কৃষিকাজ করেও জমিদার বাবুদের স্ফীত উদর ভরাতে পারেনি। ফসলি খাজনা দিতে পারেনি বলে লাখে লাখে উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। বাঁচার জন্য তাদের উত্তর দিকে আসামের গহীন জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। মহান নেতা মওলানা ভাসানী এ নিপীড়িত কৃষকদের পাশে ছিলেন। বাঙালি কৃষক আসামের জঙ্গল কেটে চাষের জমি তৈরি করেছিল। সেখানে উত্তর ভারত থেকে আগত গুজরাটি-মারাটি জমিদার শ্রেণী নিরীহ বাঙালি কৃষকদের থাকতে দিল না। ‘বাঙাল খেদাও আন্দোলন’ করে ১৯৪৭ সালের আগেই তারা ১০ লাখ বাঙালি কৃষককে পূর্ববাংলায় ফিরে আসতে বাধ্য করেছিল। অখণ্ড ভারতে কঠোর শ্রমে আবাদ করা বিরান ভূমিতেও বাঙালিরা থাকতে পারল না। খালি হাতে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। তারা বুঝেছিল অখণ্ড ভারতে বাঙালি কেউ নয়, বাংলা হলো হিন্দি ভারতের কলোনি।
এ ধারণা বাঙালি মুসলমানদের হয়েছিল আসামের ‘বাঙাল খেদাও আন্দোলন’ থেকে। এ আন্দোলনের নামে আসামের জমিদার শ্রেণীর কৃষক নিপীড়নের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী নেতৃত্ব দান করেন। আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে মওলানা ভাসানীর মনোভূমিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দানা বাঁধতে থাকে। এ সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, সি আর দাস ও সুভাস বোসের মনোভূমিতে দানা বাঁধতে থাকে।
আমাদের স্বাধীনতা, প্রেম ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম এ সময় তার কবিতায় লিখলেন :
থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে দেখব এবার জগত্টাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।
দেশ হতে দেশ-দেশান্তরে ঘুরছে তারা কেমন করে
কিসের নেশায় কেমন করে মরছে বীর লাখে লাখে।
কবি আমাদের স্বাধীনতার বাণী শোনাতে গিয়ে জগত্জয়ের কথা বললেন। বীরত্বের কথা বললেন। ১৯৪৭ সালে হিন্দুস্থানের পূর্বাঞ্চলের পূর্ব বাংলাকে আমরা পূর্ব পাকিস্তান নামে পেলাম। না, এখানে থেমে থাকলে চলবে না। আমরা অখণ্ড পাকিস্তানের একটি প্রদেশ নয়, অখণ্ড বিশ্বের একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখলাম। রক্তক্ষয়ী বীরত্বগাথা রচনা করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা বাংলাদেশ অর্জন করলাম। আমাদের স্বপ্ন ছিল দেশ আমরা চালাব। বহিরাগতদের আধিপত্য আর আমরা মানব না। কিন্তু হায় আমাদের সে স্বপ্নে গুড়েবালি। আমরা ভুসুকু কবির হরিণই রয়ে গেলাম। ১৯৭১ সালের পর পৃথিবীর দেশে দেশে আমরা বের হয়ে পড়লাম ঠিকই, কিন্তু বাঙালির ঘাম ও শ্রমের ফসল ঘরে তুলে নিতে লাগল বহিরাগতরা শাসকদের এজেন্টরা। এ ক্ষেত্রেও তারা বাঙালির হাজার হাজার বছরের আদি আতিথেয়তাপরায়ণ স্বভাবকে ব্যবহার করল।
দেখুন হাজার বছর আগে আর এক কবি ঢেগুন পা লিখেছেন :
টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী
হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী
ভাবোদ্ধার :
টিলার ওপর, প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি
হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ নিত্যদিন অতিথি আসে।
অতীতে এ অতিথিদের একদল এসেছিল সুদূর ইউরোপ থেকে। মধ্যযুগে এসেছে আরব, তুরস্ক, ইরান ও আফগানিস্তান থেকে। বহু জাতিগোষ্ঠীর এ মানুষগুলো ভাগ্যোন্নতির সন্ধানে হিন্দুস্থানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে এতদঞ্চলে ঢুকেছে। সিন্ধু, পাঞ্জাব, গুজরাট, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ প্রভৃতি এলাকায় এসে তারা অভিবাসী হলো। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বুঝতে পারল, আধা-মরুভূমি এসব এলাকায় ভাগ্য পরিবর্তন করা যাবে না। তারা শুনতে পেল হিন্দুস্থানে পূর্ব দিগন্তে রয়েছে ‘বাঙাল মুলুক’। তারা জেনেছে, পর্যাপ্ত খাদ্য, অঢেল সম্পদ, সুখ ও শান্তির এ এক স্বর্গরাজ্য। এ রাজ্যের নর-নারীরা মানুষ ও প্রাণীকে ভালোবাসে। হিংসা ধর্মে তাদের আস্থা নেই। এ অভিবাসী মানুষগুলো বলল, ‘চল মুসাফির বান্দো ঘাটুরি, বাঙাল মুলুক চল, উদার জাদা খানাপিনা মিলতা হায়।’
বহিরাগত এ অতিথিরা বাঙালির আতিথেয়তাকে ব্যবহার করেছে। বাঙালির সুন্দরী কন্যাদের বিয়ে করেছে। আত্মীয় হয়েছে। সম্পদের মালিক হয়েছে। বাঙালির শ্রমের ওপর নির্ভর করে রাজা-উজির হয়েছে। তবে রক্ত-ধারায় নিয়ে আসা হিংসা-ধর্ম ছাড়েনি। বাঙালিকে নিন্দাবাদ করেছে। অধীনস্থ করেছে। এ বহির্বঙ্গীয়রা নিজেদের হিংসা-ধর্মের বিষাক্ত বিষ পান করিয়ে স্বদেশেই বাঙালিকে প্রবাসী করে তুলেছে। আজও তাদের করাল গ্রাস থেকে বাঙালিরা মুক্তি পায়নি।
ভুসুকু পা’র দোহাটি দেখুন :
কাহেরে
ঘিণি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল হাক
পড়অ চৌদীস।
আপনা
মাংসে হরিণা বৈরী।
খনহ ন ছাড়অ ভুসুকু অহেরি।
তিন ন
চ্ছুপই হরিণা পিবই ন পানী।
হরিণা
হরিণীর নিলঅ ন
জানী।
হরিণী বোলঅ
সুণ হরিণা তো।
এ বণ
চ্ছাড়ী হোহু ভান্তো।
তরংগতে
হরিণার খুর ন দীসঅ।
ভুসুকু ভণই
মূঢ়হি অহি ন
পইসই।
সুব্রত অগাস্টিন গোমেজে এর ভাবোদ্ধার নিম্নরূপ করেছেন।
কারে করি গ্রহণ আমি, কারেই ছেড়ে দেই?
হাঁক পড়েছে
আমায় ঘিরে আমার
চৌদিকেই।
হরিণ নিজের
শত্রু হ’ল মাংস-হেতু তারই,
ক্ষণকালের
জন্য তারে ছাড়ে না শিকারী।
দুঃখী হরিণ
খায় না সে ঘাস, পান করে না
পানি,
জানে না যে
কোথায় আছে তার হরিণী
রানি।
হরিণী কয়, হরিণ, আমার একটা কথা মান্ তো,
চিরদিনের
জন্য এ-বন ছেড়ে যা
তুই, ভ্রান্ত!
ছুটন্ত সেই
হরিণের আর যায় না দেখা খুরূ
ভুসুকুর এই তত্ত্ব মূঢ়ের বুঝতে অনেক দূর।
চার হাজার বছর ধরে বাঙালি জাতি বঙ্গীয় বদ্বীপে বসবাস করছে। বাঁচার সংগ্রামে এ জাতি তার নিজস্ব সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছে। তবে বারে বারে এ জাতি বহিরাগতদের দ্বারা শাসিত, নিগৃহীত ও অবহেলিত হয়েছে। নিজ বাসভূমি ছেড়ে তারা দূরে যেতে চেয়েছে। মোগল-পাঠান আমলে তারা পূর্বদিকে আরাকান রাজ্যে গেছে। থাকতে পারেনি। ব্রিটিশ আমলে বাঙালি কৃষক তার দেহের সব শক্তি দিয়ে কৃষিকাজ করেও জমিদার বাবুদের স্ফীত উদর ভরাতে পারেনি। ফসলি খাজনা দিতে পারেনি বলে লাখে লাখে উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। বাঁচার জন্য তাদের উত্তর দিকে আসামের গহীন জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। মহান নেতা মওলানা ভাসানী এ নিপীড়িত কৃষকদের পাশে ছিলেন। বাঙালি কৃষক আসামের জঙ্গল কেটে চাষের জমি তৈরি করেছিল। সেখানে উত্তর ভারত থেকে আগত গুজরাটি-মারাটি জমিদার শ্রেণী নিরীহ বাঙালি কৃষকদের থাকতে দিল না। ‘বাঙাল খেদাও আন্দোলন’ করে ১৯৪৭ সালের আগেই তারা ১০ লাখ বাঙালি কৃষককে পূর্ববাংলায় ফিরে আসতে বাধ্য করেছিল। অখণ্ড ভারতে কঠোর শ্রমে আবাদ করা বিরান ভূমিতেও বাঙালিরা থাকতে পারল না। খালি হাতে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। তারা বুঝেছিল অখণ্ড ভারতে বাঙালি কেউ নয়, বাংলা হলো হিন্দি ভারতের কলোনি।
এ ধারণা বাঙালি মুসলমানদের হয়েছিল আসামের ‘বাঙাল খেদাও আন্দোলন’ থেকে। এ আন্দোলনের নামে আসামের জমিদার শ্রেণীর কৃষক নিপীড়নের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী নেতৃত্ব দান করেন। আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে মওলানা ভাসানীর মনোভূমিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দানা বাঁধতে থাকে। এ সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, সি আর দাস ও সুভাস বোসের মনোভূমিতে দানা বাঁধতে থাকে।
আমাদের স্বাধীনতা, প্রেম ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম এ সময় তার কবিতায় লিখলেন :
থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে দেখব এবার জগত্টাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।
দেশ হতে দেশ-দেশান্তরে ঘুরছে তারা কেমন করে
কিসের নেশায় কেমন করে মরছে বীর লাখে লাখে।
কবি আমাদের স্বাধীনতার বাণী শোনাতে গিয়ে জগত্জয়ের কথা বললেন। বীরত্বের কথা বললেন। ১৯৪৭ সালে হিন্দুস্থানের পূর্বাঞ্চলের পূর্ব বাংলাকে আমরা পূর্ব পাকিস্তান নামে পেলাম। না, এখানে থেমে থাকলে চলবে না। আমরা অখণ্ড পাকিস্তানের একটি প্রদেশ নয়, অখণ্ড বিশ্বের একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখলাম। রক্তক্ষয়ী বীরত্বগাথা রচনা করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা বাংলাদেশ অর্জন করলাম। আমাদের স্বপ্ন ছিল দেশ আমরা চালাব। বহিরাগতদের আধিপত্য আর আমরা মানব না। কিন্তু হায় আমাদের সে স্বপ্নে গুড়েবালি। আমরা ভুসুকু কবির হরিণই রয়ে গেলাম। ১৯৭১ সালের পর পৃথিবীর দেশে দেশে আমরা বের হয়ে পড়লাম ঠিকই, কিন্তু বাঙালির ঘাম ও শ্রমের ফসল ঘরে তুলে নিতে লাগল বহিরাগতরা শাসকদের এজেন্টরা। এ ক্ষেত্রেও তারা বাঙালির হাজার হাজার বছরের আদি আতিথেয়তাপরায়ণ স্বভাবকে ব্যবহার করল।
দেখুন হাজার বছর আগে আর এক কবি ঢেগুন পা লিখেছেন :
টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী
হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী
ভাবোদ্ধার :
টিলার ওপর, প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি
হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ নিত্যদিন অতিথি আসে।
অতীতে এ অতিথিদের একদল এসেছিল সুদূর ইউরোপ থেকে। মধ্যযুগে এসেছে আরব, তুরস্ক, ইরান ও আফগানিস্তান থেকে। বহু জাতিগোষ্ঠীর এ মানুষগুলো ভাগ্যোন্নতির সন্ধানে হিন্দুস্থানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে এতদঞ্চলে ঢুকেছে। সিন্ধু, পাঞ্জাব, গুজরাট, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ প্রভৃতি এলাকায় এসে তারা অভিবাসী হলো। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বুঝতে পারল, আধা-মরুভূমি এসব এলাকায় ভাগ্য পরিবর্তন করা যাবে না। তারা শুনতে পেল হিন্দুস্থানে পূর্ব দিগন্তে রয়েছে ‘বাঙাল মুলুক’। তারা জেনেছে, পর্যাপ্ত খাদ্য, অঢেল সম্পদ, সুখ ও শান্তির এ এক স্বর্গরাজ্য। এ রাজ্যের নর-নারীরা মানুষ ও প্রাণীকে ভালোবাসে। হিংসা ধর্মে তাদের আস্থা নেই। এ অভিবাসী মানুষগুলো বলল, ‘চল মুসাফির বান্দো ঘাটুরি, বাঙাল মুলুক চল, উদার জাদা খানাপিনা মিলতা হায়।’
বহিরাগত এ অতিথিরা বাঙালির আতিথেয়তাকে ব্যবহার করেছে। বাঙালির সুন্দরী কন্যাদের বিয়ে করেছে। আত্মীয় হয়েছে। সম্পদের মালিক হয়েছে। বাঙালির শ্রমের ওপর নির্ভর করে রাজা-উজির হয়েছে। তবে রক্ত-ধারায় নিয়ে আসা হিংসা-ধর্ম ছাড়েনি। বাঙালিকে নিন্দাবাদ করেছে। অধীনস্থ করেছে। এ বহির্বঙ্গীয়রা নিজেদের হিংসা-ধর্মের বিষাক্ত বিষ পান করিয়ে স্বদেশেই বাঙালিকে প্রবাসী করে তুলেছে। আজও তাদের করাল গ্রাস থেকে বাঙালিরা মুক্তি পায়নি।
No comments:
Post a Comment