চৌত্রিশ বছর দলের সদস্য। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় প্রবীণ। এন ডি এ
জমানায় বিভিন্ন মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাইয়াছেন। পঞ্চদশ লোকসভায় রাজ্যসভায়
বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। কিন্তু এ যাবৎ কখনও কোনও বিধানসভা বা লোকসভা
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নাই। এ বারের ভোটে অমৃতসর কেন্দ্রে বিজেপি
প্রার্থী হিসাবে অরুণ জেটলির নাম ঘোষণা আক্ষরিক অর্থেই ঐতিহাসিক। কিন্তু
তাহার তাৎপর্য আক্ষরিক অর্থ অপেক্ষা কিঞ্চিৎ অধিক। একটি রাজনৈতিক দলের
প্রথম সারির এক জন নেতা স্বচ্ছন্দে রাজ্যসভায় ফিরিয়া আসিতে পারিতেন, কিন্তু
সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী হইয়া জনসমর্থন আদায়ের পরীক্ষায় নিজেকে যাচাই
করিতে প্রবৃত্ত, গণতন্ত্রের অনুশীলন হিসাবে ইহার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
অনুমান করা যায়, এই পদক্ষেপের পিছনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা একটি বড়
ভূমিকা লইয়াছে। সেই অনুমান যদি সত্য হয়, তবে এই আচরণ দ্বিগুণ প্রশংসনীয়,
কারণ তাহা দলনির্বিশেষে রাজনীতিকদের পক্ষে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।
কেন অনুসরণীয়? সহজ উত্তর: প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে এক জন রাজনীতিকের নৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার শ্রেষ্ঠ উপায় নির্বাচনে দাঁড়াইয়া জনসাধারণের সমর্থন আদায় করা। এখানেই নির্বাচিত আইনসভার অ-তুলনীয় মর্যাদা। জনাদেশ যাচাইয়ের এই মৌলিক শর্তটিকে এ দেশে অনেক সময়েই প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হয় না। অনেক দলনেতাই নির্বাচনের কঠিন ভূমিতে নামেন না। অনেকে রাজ্যসভার নিরাপদ আশ্রয় বাছিয়া লন, অনেকে আবার সম্পূর্ণ অ-নির্বাচিত পরিসরে অধিষ্ঠিত থাকিয়াই ছড়ি ঘুরাইয়া থাকেন। মনমোহন সিংহ দশ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্ব রাজ্যসভায় কাটাইয়া অতুল কীর্তি স্থাপন করিয়া যাইতেছেন। সি পি আই এম পলিটব্যুরোর অনেক নায়কই ভোটে নামিতে নারাজ, কিন্তু দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর প্রভুত্ব করিতে সতত তৎপর। একই ধরনের সমস্যা ভারতীয় জনতা পার্টির ক্ষেত্রেও মাথা চাড়া দেয়, যখন আর এস এস-এর অ-নির্বাচিত নায়করা দলের উপর প্রভাব বিস্তারে তৎপর হন। প্রকাশ কারাট এবং মোহন ভাগবতের অবস্থান এক নয়, কিন্তু তাঁহাদের সম্পর্কে মূল কথা একটিই: দল তথা প্রশাসনের নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করিতে চাহিলে ভোটে জিতিয়া আসাই নীতিসম্মত নয় কি?
দল এবং দলনায়ক চাহিলে ভোটে জিতিয়া আসা সচরাচর সহজ ‘নিরাপদ আসন’ নামক অস্ত্রটি, প্রতিকূল সময়েও, সকলের ভাণ্ডারেই অল্পবিস্তর থাকে। তথাপি যখন গুরুত্বপূর্ণ কোনও নেতা ভোটের ময়দান এড়াইয়া চলেন, সেই আচরণে তাঁহাদের মানসিকতাই প্রতিফলিত হয়। নির্বাচিত না হইয়া দলের উপর কর্তৃত্ব করিবার মানসিকতা। এই মানসিকতা অ-গণতান্ত্রিক, কারণ ইহাতে জনাদেশের মর্যাদাকে তুচ্ছ করিবার প্রবণতা নিহিত থাকে। দলের অভ্যন্তরীণ পরিচালনাতেও এই ব্যাধির প্রভাব প্রকট হয়। এই প্রবণতা ভারতীয় রাজনীতির ঐতিহ্যে মিশিয়া আছে। মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী দল পরিচালনায় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রকে যথেষ্ট মর্যাদা দেন নাই, ত্রিপুরী কংগ্রেস স্মরণীয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর্বে নির্বাচিত প্রাদেশিক আইনসভা হইতে শুরু করিয়া গণপরিষদ অবধি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোনওটিতেই তিনি যোগ দেন নাই, শেষ অবধি প্রাতিষ্ঠানিকতার ‘বাহির’ হইতে কংগ্রেস তথা জাতীয় আন্দোলনকে পরিচালনা করিয়াছেন। তাঁহার ‘নির্বাচনযোগ্যতা’ লইয়া নিশ্চয়ই কোনও প্রশ্ন ছিল না, তথাপি বাহিরে থাকিবার এই সিদ্ধান্ত। ইহার পরিণাম শুভ হয় নাই ‘বাহির’ হইতে কর্তৃত্ব করিবার রীতি নৈতিক অনুমোদন পাইয়াছে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরে অ-নির্বাচিত কর্তাদের আধিপত্য অনুমোদিত হইয়াছে। এই রীতি গণতান্ত্রিক আদর্শের অনুকূল নয়। ইহার সংস্কার আবশ্যক।
কেন অনুসরণীয়? সহজ উত্তর: প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে এক জন রাজনীতিকের নৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার শ্রেষ্ঠ উপায় নির্বাচনে দাঁড়াইয়া জনসাধারণের সমর্থন আদায় করা। এখানেই নির্বাচিত আইনসভার অ-তুলনীয় মর্যাদা। জনাদেশ যাচাইয়ের এই মৌলিক শর্তটিকে এ দেশে অনেক সময়েই প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হয় না। অনেক দলনেতাই নির্বাচনের কঠিন ভূমিতে নামেন না। অনেকে রাজ্যসভার নিরাপদ আশ্রয় বাছিয়া লন, অনেকে আবার সম্পূর্ণ অ-নির্বাচিত পরিসরে অধিষ্ঠিত থাকিয়াই ছড়ি ঘুরাইয়া থাকেন। মনমোহন সিংহ দশ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্ব রাজ্যসভায় কাটাইয়া অতুল কীর্তি স্থাপন করিয়া যাইতেছেন। সি পি আই এম পলিটব্যুরোর অনেক নায়কই ভোটে নামিতে নারাজ, কিন্তু দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর প্রভুত্ব করিতে সতত তৎপর। একই ধরনের সমস্যা ভারতীয় জনতা পার্টির ক্ষেত্রেও মাথা চাড়া দেয়, যখন আর এস এস-এর অ-নির্বাচিত নায়করা দলের উপর প্রভাব বিস্তারে তৎপর হন। প্রকাশ কারাট এবং মোহন ভাগবতের অবস্থান এক নয়, কিন্তু তাঁহাদের সম্পর্কে মূল কথা একটিই: দল তথা প্রশাসনের নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করিতে চাহিলে ভোটে জিতিয়া আসাই নীতিসম্মত নয় কি?
দল এবং দলনায়ক চাহিলে ভোটে জিতিয়া আসা সচরাচর সহজ ‘নিরাপদ আসন’ নামক অস্ত্রটি, প্রতিকূল সময়েও, সকলের ভাণ্ডারেই অল্পবিস্তর থাকে। তথাপি যখন গুরুত্বপূর্ণ কোনও নেতা ভোটের ময়দান এড়াইয়া চলেন, সেই আচরণে তাঁহাদের মানসিকতাই প্রতিফলিত হয়। নির্বাচিত না হইয়া দলের উপর কর্তৃত্ব করিবার মানসিকতা। এই মানসিকতা অ-গণতান্ত্রিক, কারণ ইহাতে জনাদেশের মর্যাদাকে তুচ্ছ করিবার প্রবণতা নিহিত থাকে। দলের অভ্যন্তরীণ পরিচালনাতেও এই ব্যাধির প্রভাব প্রকট হয়। এই প্রবণতা ভারতীয় রাজনীতির ঐতিহ্যে মিশিয়া আছে। মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী দল পরিচালনায় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রকে যথেষ্ট মর্যাদা দেন নাই, ত্রিপুরী কংগ্রেস স্মরণীয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর্বে নির্বাচিত প্রাদেশিক আইনসভা হইতে শুরু করিয়া গণপরিষদ অবধি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোনওটিতেই তিনি যোগ দেন নাই, শেষ অবধি প্রাতিষ্ঠানিকতার ‘বাহির’ হইতে কংগ্রেস তথা জাতীয় আন্দোলনকে পরিচালনা করিয়াছেন। তাঁহার ‘নির্বাচনযোগ্যতা’ লইয়া নিশ্চয়ই কোনও প্রশ্ন ছিল না, তথাপি বাহিরে থাকিবার এই সিদ্ধান্ত। ইহার পরিণাম শুভ হয় নাই ‘বাহির’ হইতে কর্তৃত্ব করিবার রীতি নৈতিক অনুমোদন পাইয়াছে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরে অ-নির্বাচিত কর্তাদের আধিপত্য অনুমোদিত হইয়াছে। এই রীতি গণতান্ত্রিক আদর্শের অনুকূল নয়। ইহার সংস্কার আবশ্যক।